পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্মতারিখের ভিন্নতা এবং বাংলাদেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার সন্দেহে রবিউল ইসলাম নামে এক ভারতীয় নাগরিককে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রবিউলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের এসআই বিনয় কুমার রায়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আইনজীবী মো. হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শুনানির সময় রবিউলের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রবিউল বলেন, ‘আমি কিচ্ছু জানি না। বাংলাদেশে আমি প্রায়ই আসি। আমার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে। ওনারা (পুলিশ) যা যা বলছে, তার কিচ্ছু পায়নি আমার থেকে।’
বিদেশি গোয়েন্দা এজেন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না।’ বাংলাদেশে আসার কারণ জানতে চাইলে রবিউল বলেন, ‘আমার বন্ধু কাওসারের সঙ্গে গার্মেন্টসের কাপড়ের ব্যবসা করি। এজন্য প্রায়ই বাংলাদেশে আসি।’
পাসপোর্ট, এনআইডি ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে তথ্যের অমিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো অনেক আগে করা। এজন্য এনআইডি এবং পাসপোর্টে একটু অমিল থাকা স্বাভাবিক।’
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, রবিউল ইসলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়ি ভোজ গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাসার নিচতলা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, রবিউল গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর তার গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় গোয়েন্দা নজরদারিতে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করে পাসপোর্ট দেখালেও পরে তার কাছে থাকা ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডি পরীক্ষা করা হয়। এসব নথিতে থাকা জন্মতারিখের মধ্যে মিল পাওয়া যায়নি।


