নভেম্বরে সড়কে নিহত ৭১ শিশু: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন  

নভেম্বরে সড়কে নিহত ৭১ শিশু: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন  
সড়ক দুর্ঘটনা | প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

নভেম্বর মাসে দেশজুড়ে ৫৩৪ সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭১ জনই শিশু। নারী ৬৪ ও পুরুষ ৩৪৮ জন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন এক হাজার ৩১৭ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে নভেম্বরে দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। পরিসংখ্যানে নয়টি জাতীয় দৈনিক, সাতটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৮৭২টি। মোট সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ। ২২৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৯৪ জন, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ১৬ শতাংশ। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ১০৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৭ জন, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৩১টি (২৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ২৪৫টি (৪৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৮২টি (১৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৭১টি (১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং ৫টি (দশমিক ৯৩ শতাংশ) অন্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

আরও পড়ুন

সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি নভেম্বরে ছয়টি নৌ-দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাতজন, নিখোঁজ পাঁচজন। ৪৭টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, দুর্ঘটনার হার ২৬ দশমিক ৪০ শতাংশ, প্রাণহানি ২৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৪১টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ৩০টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি ৪১টি দুর্ঘটনায় ৩৭ জন নিহত হয়েছে। সবচেয়ে কম শেরপুর ও পঞ্চগড় জেলায়। নয়টি দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ-যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ-র সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকে দায়ী করেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর