দেশে নতুন করে স্বৈরাচারী শাসনের উত্থান হচ্ছে: নাহিদ

দেশে নতুন করে স্বৈরাচারী শাসনের উত্থান হচ্ছে: নাহিদ
ঢাকার শাহবাগে শুক্রবার প্রতিবাদ সমাবেশে দলের অন্য নেতাদের সঙ্গে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/টাইমস
Advertisement
Advertisement

গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি স্বৈরাচারী সরকারের পতন হলেও দেশে নতুন করে স্বৈরাচারী শাসনের উত্থান হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

এ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে তরুণ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এনসিপি আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, এক স্বৈরাচারকে বিদায় করে আমরা এখন নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি। কিন্তু আপনাদের সামনে আমাদের ওয়াদা, আপনাদের সামনে আমাদের প্রতিশ্রুতি, পতিত স্বৈরাচার এবং এই নব্য স্বৈরাচার, এই দুই স্বৈরাচারকেই আমরা রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করব ইনশাআল্লাহ।

আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ দেশে ফিরতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করতে পারবে না। গত ১৬ বছরেও বিএনপি আওয়ামী লীগের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করতে পারেনি। এ অবস্থায় তরুণ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের মানুষকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে চার দফা দাবি তুলে ধরে এনসিপি। দাবিগুলো হলো ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ, একতরফা সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতাবিরোধী আইন বাতিল এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস না করা। পাশাপাশি জুলাই গণহত্যার বিচার শেষ করে রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিও জানায় দলটি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গত সাত দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করে তারা মানুষের সমস্যার কথা শুনেছেন। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস ও দখলদারত্বে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। জনগণের নিরাপত্তা দিতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, মন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের বদলে সংবিধান সংশোধনের কাজে ব্যস্ত। জ্বালানিমন্ত্রীরও পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। একতরফাভাবে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান।

বিএনপির বিরুদ্ধে জুলাই সনদ, ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগও তোলেন নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের দেশ পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা নেই। সরকার দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বে মনোযোগ দিচ্ছে।

আরও পড়ুন

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, সীমান্ত হত্যা, পাহাড়ে অশান্তি এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের নিপীড়নের ঘটনায় সরকার যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না। জাপান সফরে গিয়ে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের জন্য করিডোর তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। জনগণ এ ধরনের করিডোর মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন। আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।

সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে বলা হয়েছিল, নির্বাচন হলে দেশের পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু নির্বাচনের নয় মাস পরও আইনশৃঙ্খলা, গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার উন্নতি হয়নি।

তিনি বলেন, ‘গত নয় মাসে শুধু নিজেরা নিজেরা মারামারি করে বিএনপির ৪০ জনের উপরে নেতাকর্মী খুন হয়েছে।’

বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘাত, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও দখলদারত্বের ঘটনা তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, এসব ঘটনার বিচার না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।

মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর মানবাধিকার সুরক্ষায় শক্তিশালী আইন প্রণয়নের প্রত্যাশা থাকলেও সরকার দুর্বল আইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

মানবাধিকারবিরোধী আইন বাতিল এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী না আনার দাবি জানান তিনি।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গণপরিবহনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না করে ঢাকায় অটোরিকশা বন্ধ করা যাবে না। অটোরিকশা বন্ধ করতে হলে দ্রুত জনবান্ধব গণপরিবহন চালুর দাবি জানান তিনি। তা না হলে রাস্তায় চলা ‘লুটেরা’ পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

বিএনপির এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত আট মাসে এক কোটি তরুণের কর্মসংস্থানের বদলে তাদের জীবিকার ওপর আঘাত এসেছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য মেঘনা ও বসুন্ধরা গ্রুপের মতো ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন তিনি। এসব গ্রুপ বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে অর্থ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নাসীরুদ্দীন। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থান, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, আওয়ামী লীগের বিচার এবং পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানান তিনি।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে। এলপিজির নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা হলেও বাজারে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের অর্থ ও লোগো ব্যবহার করে পোস্টার-ব্যানার লাগানোর অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ। তার দাবি, উচ্ছেদের নামে বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে চাঁদাবাজি চলছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি।

দুপুর আড়াইটার পর এনসিপির উত্তর ও দক্ষিণ শাখা, যুবশক্তি, ছাত্রশক্তি ও স্বেচ্ছাসেবকশক্তির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগে আসেন। বিকাল ৩টার দিকে শুরু হওয়া সমাবেশ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। গত সাত দিনের গণসংযোগ কর্মসূচি শেষে এ গণবিক্ষোভের আয়োজন করে দলটি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad