দিনাজপুরে সিআইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তে অসংগতির অভিযোগ

দিনাজপুরে সিআইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তে অসংগতির অভিযোগ
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

বিচারিক আদালতে অসংগতিপূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, দাপ্তরিক বিধি লঙ্ঘন এবং ভুয়া মামলা নম্বর ব্যবহার করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুরে অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. ওসমান গনির বিরুদ্ধে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীদের তথ্য সূত্রে জানা যায়, রেলওয়েতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত একটি অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল একটি নোটিশ জারি করা হয়। এতে দিনাজপুর সদর রেলওয়ে কলোনির আজাদ হোসেন, অর্জুনপুর এলাকার খাইরুল ইসলাম এবং বাহাদুর বাজারের শাহ আলমকে বিশেষ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, উপস্থিত হওয়ার পর মূল অনুসন্ধানের বাইরে ছাদিকুল নামক এক ব্যক্তির চেক ও স্ট্যাম্প নিষ্পত্তির জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।

পরে নোটিশ ও তদন্তের আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে একাধিক অসংগতির কথা তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা। শুরুতে যে মামলা উল্লেখ করে নোটিশ পাঠানো হয়, পরে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় অন্য একটি মামলায়। প্রাতিষ্ঠানিক প্যাড বা সরকারি সিল ব্যবহার না করে সাধারণ কাগজের উল্টো পিঠে নোটিশের লিখিত রূপ দিয়ে পুলিশ সদস্য মারফত জারি করার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ আদালতে দাখিল করা সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের সরবরাহ করা দাপ্তরিক কাগজপত্র পর্যালোচনায় কয়েকটি অমিল দেখা যায়।

আরও পড়ুন

সিআইডির প্রতিবেদনে আজাদ হোসেনকে ওয়েম্যান বলা হলেও রেলওয়ের অফিশিয়াল আইডি ও ডিউটি রেজিস্টার অনুযায়ী তার পদবি মেট।

প্রতিবেদনে ২০২৩ ছাদিকুলের নিয়োগের তথ্য উল্লেখ থাকলেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারির এবং চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয় ওই বছরের ২৮ অক্টোবরে।

সিআইডি প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের ১৫ মে রাত আনুমানিক ৮টায় দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার আমবাড়ীতে বিবাদীদের বাকবিতণ্ডার কথা বলা হলেও, রেলওয়ের ডিউটি শিট (গ্যাং নং-৩ কেপি) অনুযায়ী সে সময়ে আজাদ হোসেন অন্য এলাকায় ডিউটিতে ছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রধান চারজন সাক্ষীই ছাদিকুল ইসলামের পিতা, শ্বশুর, মামা ও ভায়রাসহ তার নিকটাত্মীয়।

ভুক্তভোগী শাহ আলমের মামলা অনুযায়ী ২৫ শতক জমি বিক্রির বায়না ও ২০ লাখ টাকার চেক ডিসঅনার সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে চলমান থাকলেও সিআইডি প্রতিবেদনে সেই লেনদেনের তথ্যকে কাল্পনিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. ওসমান গনির কাছে ছাদিকুলের মামলা জালিয়াতি এবং দুটি মামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জবাব না দিয়ে লাইন কেটে ফোন বন্ধ করে দেন। পরে সিআইডি অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর