তিন ধাপে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ ঐকমত্য কমিশনের

তিন ধাপে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ ঐকমত্য কমিশনের
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সুপারিশ হস্তান্তর। ছবি: পিআইডি
Advertisement
Advertisement

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের রূপরেখা হিসেবে তিন ভাগে সুপারিশ দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, সংবিধান সংশ্লিষ্ট নয় এমন বিষয়গুলো অধ্যাদেশ ও অফিস আদেশের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সুপারিশ হস্তান্তর শেষে মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যেসব বিষয় সংবিধান সংশ্লিষ্ট নয়, তা সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারে। আবার অনেক বিষয় আছে যা অফিস আদেশের মাধ্যমে কার্যকর করা সম্ভব। এই দুই ধরণের বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের কোনো মতভিন্নতা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোন বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে এবং কোন বিষয় অফিস আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যাবে, তা সুপারিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।’

সংবিধান সংশ্লিষ্ট ৪৮টি বিষয়ে আইনি ভিত্তি তৈরি এবং বাস্তবায়নের পথনির্দেশনা দিতে দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ জারি করে তাতে উল্লিখিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলো গণভোটে উপস্থাপন করবে।

আরও পড়ুন

প্রথম বিকল্পে বলা হয়েছে, আদেশ জারির পর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যা গঠনমূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। সেখানে জাতীয় সংসদ ও সংস্কার পরিষদ একযোগে কার্যকর থাকবে।

দ্বিতীয় বিকল্পে প্রস্তাব করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই সনদে নির্ধারিত সংবিধান সংস্কারের পূর্ণাঙ্গ খসড়া বিল গণভোটে উপস্থাপন করবে। গণভোটে অনুমোদিত হলে বিলটি পরিষদের সহায়ক দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে এবং পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করতে না পারলে বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে।

অন্য প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পরিষদ জুলাই সনদ অনুযায়ী ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং কার্যক্রম শেষে পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো এমদাদুল হক, ইফতেখারুজ্জামান, বদিউল আলম মজুমদার, মো আইয়ুব মিয়া, সফর রাজ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর