ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তামিলাগা ভেত্রি কাজাগামের (টিভিকে) প্রতিষ্ঠাতা ও দক্ষিণী চলচ্চিত্রের অভিনেতা সি জোসেফ বিজয় ওরফে বিজয় থালাপতি।
রোববার সকাল ১১টার দিকে চেন্নাইয়ের জওহর লাল নেহরু স্টেডিয়ামে তিনি শপথ নেন। একই সঙ্গে শপথ নিয়েছেন তার মন্তিসভার নয় মন্ত্রী।
থালাপতি বিজয়কে শপথ পড়ান তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকার।
জাঁকজমকপূর্ণ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ও অন্য দলের নেতারা। আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান।
কেবল দুই বছর আগে রাজনৈতিক দল গঠন করে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য দেখান বিজয়।
জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ১০৮টিতে জয় পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়।
এর মধ্য দিয়ে একক নেতৃত্বাধীন দল গঠন করে ১৯৭৭ সালে এম জি রামচন্দ্রনের (এমজিআর) পর তিনিই প্রথম চলচ্চিত্র তারকা হিসেবে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসলেন।
তবে এই নিয়োগের সঙ্গে একটি বিশেষ শর্ত রয়েছে।
গত সোমবার ঘোষিত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হলেও ২৩৪ আসনের বিধানসভায় একক সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন।
কাজেই আগামী বুধবার বা তার আগে বিধানসভায় আস্থা ভোটের মাধ্যমে বিজয়কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে।
সংসদীয় ব্যবস্থা অনুযায়ী, এতে পাস না করতে পারলে তাকে অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে।
সেইসঙ্গে নির্বাচনে একাই দুটি আসনে জয়লাভ করায় নিয়ম অনুযায়ী, ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ১৪ দিনের মধ্যে বিজয়কে একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে।
এর আগে শনিবার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায় যখন বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়কে সমর্থন দেয়। তাদের মোট চারটি আসন যোগ হওয়ায় জোটের শক্তি দাঁড়ায় ১২০ আসনে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমার চেয়ে বেশি। বিজয় কংগ্রেস, সিপিআই এবং সিপিআইয়েরও (এম) সমর্থনপত্র জমা দিয়েছিলেন।


