দীর্ঘ নয় মাসেও অনুষ্ঠিত হয়নি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ‘চ্যান্সেলর কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫’ এর ফাইনাল ম্যাচ। টুর্নামেন্টের একটি সেমিফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও নিয়মভঙ্গের অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ সময়েও সেই কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় আটকে আছে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ম্যাচ।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া আয়োজনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়রা। তাদের অভিযোগ, তদন্ত শেষ না হওয়ায় টুর্নামেন্টের ফাইনাল আয়োজনের বিষয়ে কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে চ্যান্সেলর কাপের সেমিফাইনালে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক হল ও মওলানা ভাসানী হলের মধ্যকার ম্যাচে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হলে খেলাটি স্থগিত করা হয়। অপর সেমিফাইনালে জয় পেয়ে এরই মধ্যে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল।
সেমিফাইনালের ওই ঘটনায় ম্যাচের নিয়ম লঙ্ঘন ও অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটি গঠনের প্রায় নয় মাস পেরিয়ে গেলেও প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় ফাইনাল ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘসূত্রতার কারণে ফাইনালে ওঠা কাজী নজরুল ইসলাম হলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
কাজী নজরুল ইসলাম হলের ক্রীড়া সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘আমরা নয় মাস ধরে প্রশাসন ও শারীরিক শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি। বিষয়টি তারা বিভিন্নভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন।’
তৎকালীন তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক আবেদা সুলতানা বলেন, ‘সেই সময় আমি হল প্রভোস্ট কমিটির প্রধান ও কেন্দ্রীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক থাকায় তদন্ত কমিটিতে ছিলাম। আমি আমার জায়গা থেকে মতামত দিয়েছি। বর্তমান প্রভোস্ট কমিটির প্রধানের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা। এত দেরি হচ্ছে কেন, তা জানি না। এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মো. শামছুল আলম ভালো বলতে পারবেন।’
জাবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ও বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ক্রীড়া কমিটির সভাপতি মো. শামছুল আলম বলেন, ‘প্রশাসনিক কিছু রদবদলের কারণে তদন্ত শেষ করতে দেরি হয়েছে। তবে তদন্ত বর্তমানে শেষ হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন শারীরিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে খুব দ্রুত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।’
শারীরিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বেগম নাছরীনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে শারীরিক শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক মো. আজমল আমীন বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সবে শারীরিক শিক্ষা অফিসে এসেছে। তদন্তের কারণে টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত করা যায় না, বিষয়টি এমন নয়। উপাচার্যের অনুমতি নিয়ে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।’
তদন্তের সুপারিশ সম্পর্কে তিনি জানান, সেমিফাইনালে অংশ নেওয়া দুই দলই নিয়ম ভঙ্গ করেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ কারণে উভয় দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি অপর সেমিফাইনাল থেকে ফাইনালে ওঠা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার সুপারিশ করা হয়েছে।


