মালদ্বীপে ডলার সংকট, বাংলাদেশিদের সুরক্ষার উদ্যোগ

মালদ্বীপে ডলার সংকট, বাংলাদেশিদের সুরক্ষার উদ্যোগ
Advertisement
Advertisement

পর্যটননির্ভর অর্থনীতি, বিলাসবহুল রিসোর্ট এবং বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটকের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত মালদ্বীপ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি–মার্কিন ডলারের সংকট। পর্যটন খাত সচল থাকলেও বৈদেশিক মুদ্রার সীমিত প্রাপ্যতা এখন ব্যাংক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আমদানিকারক এবং প্রবাসী কর্মীদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি করছে।

এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রবাসী কর্মীদের অর্থ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রেও। বিশেষ করে মালদ্বীপে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক মালদ্বীপিয়ান রুফিয়াতে বেতন পেলেও দেশে অর্থ পাঠাতে গিয়ে মার্কিন ডলারের সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন।

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মালদ্বীপ থেকে বৈধভাবে বিদেশে পাঠানো প্রবাসী আয়ের সবচেয়ে বড় গন্তব্য বাংলাদেশ। মালদ্বীপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মালদ্বীপ থেকে বাইরে পাঠানো মোট আয়ের প্রায় ৭২ শতাংশই বাংলাদেশে গেছে।

ফলে মালদ্বীপের বর্তমান ডলার সংকট শুধু একটি মুদ্রাবাজারের সমস্যা নয়; এটি বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মী, তাদের আয়, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

ডলার সংকটের বাস্তবতা

মালদ্বীপের ডলার সংকটের বিষয়টি শুধু বাংলাদেশিদের জন্য প্রযোজ্য নয়। এটি দেশটির সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও অর্থনীতির একটি বড় সমস্যা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিভিন্ন সময়ে মালদ্বীপের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, রিজার্ভের ওপর চাপ এবং বহিঃখাতের ঝুঁকিকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০২৬ সালের মূল্যায়নেও সংস্থাটি মালদ্বীপের অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতার পাশাপাশি বহিঃখাতের বিভিন্ন চাপ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করেছে।

সমস্যাটি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে সরকারি ও সমান্তরাল বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ব্যবধানের মাধ্যমে। সরকারি বিনিময় হার প্রতি মার্কিন ডলারে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ মালদ্বীপিয়ান রুফিয়া। অন্যদিকে, সমান্তরাল বাজারে ডলারের মূল্য বিভিন্ন সময়ে ২২ থেকে ২৩ রুফিয়া বা তারও বেশি বলে জানা গেছে।

এই ব্যবধান একজন প্রবাসী শ্রমিকের জন্য নিছক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নয়। এটি সরাসরি তার উপার্জনের ওপর প্রভাব ফেলে।

ধরা যাক, একজন শ্রমিক ১৫ হাজার রুফিয়া দেশে পাঠাতে চান। সরকারি হারে এর মূল্য প্রায় ৯৬৮ ডলার। কিন্তু একই অর্থ ডলার সংগ্রহ করতে যদি ২২ রুফিয়া হারে বিনিময় করতে হয়, তাহলে তা নেমে আসে প্রায় ৬৮২ ডলারে। অর্থাৎ একজন শ্রমিককে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

সংকটের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি

ডলারের এই ঘাটতি আরেকটি ঝুঁকি তৈরি করছে—অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধ উপায়ে অর্থ পাঠানোর পথের প্রসার। সরকারি ব্যবস্থায় ডলার পাওয়া কঠিন হলে এবং সরকারি ও সমান্তরাল বাজারে বড় ব্যবধান থাকলে প্রবাসী কর্মীদের অনানুষ্ঠানিক পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়তে পারে। এটি উভয় দেশের জন্যই ক্ষতিকর।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর ফলে বৈধ ও হিসাবভুক্ত প্রবাসী আয় কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, মালদ্বীপের জন্য অনানুষ্ঠানিক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আর্থিক স্বচ্ছতা ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অতএব, সমাধান হওয়া উচিত এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে বৈধ উপায়ে অর্থ পাঠানো সহজ, নিরাপদ, স্বচ্ছ ও অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসংগত হয়।

বাংলাদেশের জন্য কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ

মালদ্বীপে বাংলাদেশি প্রবাসী জনগোষ্ঠী দেশটির শ্রমবাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্মাণ, পর্যটন, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, সেবা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য খাতে বাংলাদেশি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ মালদ্বীপ থেকে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রধান গন্তব্য।

মালদ্বীপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোট প্রবাস আয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ বাংলাদেশে গেছে। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে দুই দেশের মধ্যে এই প্রবাহ কতটা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংযোগ তৈরি করেছে।

এ কারণে মালদ্বীপের ডলার সংকটকে বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ দূতাবাস শুধু একটি ব্যাংকিং সমস্যা হিসেবে দেখছে না। বিষয়টি এখন প্রবাসী কল্যাণ, শ্রম কূটনীতি, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং জাতীয় স্বার্থের অংশ হয়ে উঠেছে।

দূতাবাসের সক্রিয় ও বহুমাত্রিক উদ্যোগ

এই পরিস্থিতিতে মালদ্বীপের মালেতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস একটি সক্রিয় ও বহুমাত্রিক ভূমিকা গ্রহণ করেছে।

প্রচলিত কূটনৈতিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে দূতাবাস মালদ্বীপের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছে। রাষ্ট্রদূত নিজে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহী ও ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আলোচনা করে ডলার সংকটের প্রকৃতি, ব্যাংকিং খাতে এর প্রভাব এবং বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করেছেন।

একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে মালদ্বীপের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং মালদ্বীপ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

এই ধারাবাহিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি হলো–ডলার সংকটটি বাংলাদেশিদের জন্য আলাদা কোনো সমস্যা নয়; এটি মালদ্বীপের সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের একটি বৃহত্তর সংকট।

মালদ্বীপের নাগরিক ও ব্যবসায়ীরাও বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাংলাদেশকে নতুন করে অর্থ পাঠানোর অবকাঠামো তৈরি করে শুরু করতে হচ্ছে না। মালদ্বীপে ইতিমধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান ২০১১ সাল থেকে কাজ করছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশিদের জন্য বৈধ উপায়ে অর্থ পাঠানোর একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই রয়েছে।

এ কারণে শুধু নতুন কোনো অর্থ স্থানান্তরকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক চালু করলেই বর্তমান সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হবে না। মূল সমস্যা হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য।

সহজ ভাষায় বলা যায়, নতুন ব্যাংক একটি ভালো যোগাযোগের পথ তৈরি করতে পারে, কিন্তু বাজারে না থাকা ডলার তৈরি করতে পারে না।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস সমস্যাটির কাঠামোগত সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।

প্রবাসী কর্মীদের জন্য বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ

দূতাবাসের উদ্যোগ শুধু ব্যাংক ও সরকারের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশি কর্মী এবং তাদের নিয়োগকর্তাদের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ করা হচ্ছে।

যেখানে আইনগত ও বাস্তবসম্মতভাবে সম্ভব, সেখানে নিয়োগকর্তাদের ডলার-সংযুক্ত বেতন ব্যবস্থা বা কর্মীদের জন্য বৈধ উপায়ে ডলার সংগ্রহে সহযোগিতা করার বিষয়ে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ, আধুনিক শ্রম কূটনীতি শুধু পাসপোর্ট, শ্রমবিরোধ, আটক বা দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয় নিয়ে কাজ করে না। একজন প্রবাসী শ্রমিকের উপার্জনের প্রকৃত মূল্য রক্ষা করাও এখন শ্রম কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাংলাদেশ দূতাবাসের এই উদ্যোগ সেই বাস্তবতাকেই প্রতিফলিত করছে।

সম্ভাব্য সমাধানের পথ

বর্তমান সংকটের কোনো একক সমাধান নেই। তবে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ যৌথভাবে কয়েকটি বাস্তব পদক্ষেপ নিতে পারে।

প্রথমত, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং মালদ্বীপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে একটি কারিগরি সংলাপ শুরু করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের আয়ের জন্য আরও অনুমেয় বৈদেশিক মুদ্রা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা তৈরি করা যায় কি না, তা পরীক্ষা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় মুদ্রাভিত্তিক নিষ্পত্তি ব্যবস্থার সম্ভাবনাও কারিগরি পর্যায়ে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, মালদ্বীপের সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা বজায় রেখেই বৈধ প্রবাসী আয়ের জন্য একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।

তৃতীয়ত, যেখানে আইন অনুমোদন করে, সেখানে নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে ডলার-সংযুক্ত বেতন বা বৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে কর্মীদের সমান্তরাল বাজারের ওপর নির্ভরতা কমবে।

চতুর্থত, মালদ্বীপে বাংলাদেশের ব্যাংকিং উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করা দীর্ঘমেয়াদে প্রবাসী আয়, বাণিজ্য অর্থায়ন এবং বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বর্তমান সংকট একটি বিষয় পরিষ্কার করেছে—ব্যাংকিং উপস্থিতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য দুটি সম্পর্কিত হলেও আলাদা সমস্যা।

পঞ্চমত, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ ভবিষ্যতে বাণিজ্য নিষ্পত্তি, বিনিয়োগ, আর্থিক প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বৃহত্তর আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের যথাযথ মূল্যায়ন সাপেক্ষে প্রয়োজন ও সম্ভাবনা থাকলে কাঠামোবদ্ধ অর্থায়ন বা ঋণ সহায়তা নিয়েও আলোচনা করা যেতে পারে।

শ্রম কূটনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক

ডলার সংকটের পাশাপাশি মালদ্বীপে বিদেশি কর্মীদের অবস্থান ও বৈধতা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে নীতিগত আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস এই বিষয়েও মালদ্বীপ সরকারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

উচ্চপর্যায়ের গোপনীয় আলোচনায় দূতাবাসকে এমন একটি সম্ভাব্য নীতিগত পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল, যার ফলে তৎকালীন নীতিগত বিবেচনার অধীনে প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর প্রত্যাবাসন বা বহিষ্কারের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত।

বিষয়টি যেহেতু গোপনীয় পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে, তাই এটিকে প্রকাশ্য বা নিশ্চিত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়। তবে ঘটনাটি মালদ্বীপে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় ধারাবাহিক ও সক্রিয় কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার গুরুত্ব স্পষ্ট করে।

এই ক্ষেত্রে দূতাবাসের নীতি ছিল সংঘাত নয়, বরং সংলাপ, সমঝোতা ও নীরব কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা।

সংকট থেকে নতুন সুযোগ

মালদ্বীপের বর্তমান ডলার সংকট নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। তবে এটি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সম্পর্ককে আরও গভীর করার একটি সুযোগও তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশি কর্মীরা মালদ্বীপের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। অন্যদিকে, মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ প্রবাসী আয় প্রবাহিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য খাতেও বাংলাদেশ দক্ষ জনবল সরবরাহের মাধ্যমে মালদ্বীপের অর্থনীতিতে আরও অবদান রাখতে পারে।

তাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্ক শুধু শ্রমবাজার বা প্রচলিত কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আর্থিক সংযোগ, ব্যাংকিং, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি সহযোগিতার একটি বিস্তৃত কাঠামোতে রূপ নিতে পারে।

সক্রিয় কূটনীতির একটি উদাহরণ

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো–বাংলাদেশ দূতাবাস সমস্যাটিকে শুধু বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ সুবিধা আদায়ের বিষয় হিসেবে দেখছে না। বরং মালদ্বীপের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা করে উভয় দেশের জন্য কার্যকর সমাধান খুঁজছে।

এটি আধুনিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ—যেখানে প্রবাসী কল্যাণ, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং জাতীয় স্বার্থ একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার এবং মালেতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার সমন্বয়ে এখন প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমাধান।

তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হওয়া উচিত-বাংলাদেশি কর্মীরা যেন তাদের বৈধ উপার্জন নিরাপদে, স্বচ্ছভাবে এবং অযৌক্তিক বিনিময়-ক্ষতি ছাড়াই দেশে পাঠাতে পারেন।

দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হওয়া উচিত–বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও শক্তিশালী আর্থিক লেনদেনের পথ গড়ে তোলা।

মালদ্বীপের ডলার সংকট হয়তো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু বাংলাদেশের সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ এটিকে একই সঙ্গে একটি সম্ভাবনায় রূপ দিতে পারে—প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা, বৈধ প্রবাস আয়ের প্রবাহ এবং বাংলাদেশ-মালদ্বীপের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর