প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদনও নাকচ করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত আসামির অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
আগামী ১০ নভেম্বর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী সালেহ উদ্দিন।
আদালতে আহমেদ জোবায়েরের পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী সালেহ উদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। পরে আসামির জামিন চেয়ে আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
এদিকে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে করা অপর একটি মামলায়ও আহমেদ জোবায়েরের জামিন আবেদন করা হয়।
এই মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহানের আদালতে তার পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী সালেহ উদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত ওই মামলাতেও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সময় টেলিভিশনের দায়িত্বে থাকাকালে প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেন আহমেদ জোবায়ের। পরবর্তীতে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের দুটি গাড়ি এবং উত্তোলন করা অর্থ ফেরত দিতে বলা হয়। তবে তিনি এসব সম্পদ ও অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সময় টিভির মালিকানা প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ এসব সম্পদ ফেরত চেয়ে আহমেদ জোবায়েরকে আইনি নোটিশ পাঠালেও তিনি তাতে সাড়া দেননি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সময় টিভির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক সৈয়দ আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ৫ মে মামলা করেন। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও কাগজপত্র জালিয়াতির অভিযোগে আহমেদ জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলাটি করা হয়। ওই মামলার অপর আসামিরা হলেন—আহমেদ জোবায়েরের স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী, মেয়ে সারাফ নাওয়ার জয়ীতা, ছেলে আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী।
মামলায় আসামিদের ১৭ জুন আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে তারা হাজির না হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ১৮ জুন আহমেদ জোবায়ের, আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত তিন আসামিকে জামিন দিলেও আহমেদ জোবায়েরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী সালেহ উদ্দিনের দাবি, সময় মিডিয়া লিমিটেডের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে চলমান বিরোধের জেরে আহমেদ জোবায়েরের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলকভাবে মামলাটি করা হয়েছে। তিনি মামলার অভিযোগের বিষয়ে আসামির দায় অস্বীকার করেন।


