বগুড়ায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

বগুড়ায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

বগুড়া শেরপুরে যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাট বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থানীয় ফলপট্টি এলাকার এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল আনুমানিক সাড়ে পাঁচটায় শেরপুরের মেসার্স সায়েম ট্রেডার্স ও সায়েম ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস অফিসে অতর্কিত প্রবেশ করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি বাহিনী এই হামলা করে।

এ ঘটনায় একইদিন রাতে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল রাফাত বাদী হয়ে শেরপুর থানায় এজাহার দায়ের করেন।

থানার এজাহার ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, শেরপুর পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাট গত ৮ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সায়েম ট্রাভেলস এর অফিসে এসে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদেরকে হুমকি দিয়ে তাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রবাসী আব্দুল মান্নানের কাছে চাঁদা দাবি করেন।

একই সাথে চাঁদা না দিলে প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখলসহ শেরপুরে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেন। ১০ই সেপ্টেম্বর বিকাল আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে অভিযুক্ত যুবদল নেতা সম্রাটের প্রত্যক্ষ মদদে তার নিজস্ব বাহিনীর ৫০ থেকে ৬০ জন কিশোর গ্যাং সদস্য শেরপুরের সায়েম ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস প্রতিষ্ঠানটিতে অতর্কিত প্রবেশ করে হামলা চালায়।

আরও পড়ুন

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সম্রাট বাহিনীর সদস্যরা প্রতিষ্ঠানটিতে থাকা কর্মচারীদেরকে ধমকাচ্ছে। তারা বারবার প্রতিষ্ঠানটির মালিক আব্দুল মান্নান ও তার সন্তানদের খুঁজতে থাকেন।
কিছু সময় পর দোকানের শাটার নামিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় দোকানের টেবিলে থাকা নগদ এক লক্ষ দশ হাজার টাকাও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয় এজাহারে।

এদিকে এই ঘটনার পরপরই যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় এজাহার দায়ের করেন প্রতিষ্ঠানটি স্বত্বাধিকারী আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল রাফাত।

মেসার্স সায়েম ট্রেডার্স ও সায়েম ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস এর পরিচালক মামলার বাদী মো. আব্দুল্লাহ আল রাফাত জানান, তিনি শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।
রাফাত অভিযোগ করে বলেন, যুবদলের নাম ভাঙিয়ে সরকারের অধিগ্রহণকৃত জায়গা দখল করে অভিযুক্ত সম্রাট ভাড়া বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্রাটের দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় তার বাহিনী দিয়ে যে ঘটনা তিনি ঘটিয়েছেন তার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

এদিকে ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাটের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বগুড়া শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম মঈনুদ্দিন জানান, ঘটনাটি জানার সাথে সাথেই তিনি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে তারা বৃহস্পতিবার রাতেই একটি এজাহার পেয়েছেন। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর