ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি বলেন, বায়তুল মোকাররমকে কেন্দ্র করেও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নেওয়া নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জানান, বরাবরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সকাল অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। এখানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি ঈদের জামাত আদায় করতে পারবেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট ৫ টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায়। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রধান জামাতটি বায়তুল মোকাররম মসজিদে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে মোট ১২১টি ঈদগাহ এবং ১৫৯৯টি মসজিদে মোট ১৭৭১ টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে আগের দিন রাজধানীতে তিনটি ঈদ জামাত ও শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এসব ঈদ জামাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ ও ঢাকার অন্যান্য জায়গায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি পুলিশ সমন্বিত, সুদূঢ়, সুবিন্যস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের ঈদের জামাতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। প্রবেশ গেইটগুলোতে তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত থাকবে। ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান তিনটি রাস্তার প্রবেশ মুখে ব্যারিকেড থাকবে যেখানে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। যেমন- মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষাভবন। ঈদ ময়দানের চারপাশে বহি:বেষ্টনীতে তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। মূল গেটে আর্চওয়ের মধ্য দিয়ে মুসল্লিদের প্রবেশ করতে হবে।
নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশ গেইট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা এসবির সুইপিং টিম এবং সিটিটিসি ডগ স্কোয়াড সুইপিং করবে। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট স্ট্যান্ডবাই থাকবে। সোয়াট ও সাদা পোশাকে ডিবি এবং সিটিটিসির সদস্য মোতায়েন থাকবে। যাতে করে পুরো এলাকা ঘিরে আলাদা নিরাপত্তা বলয় তৈরি হবে। ওয়াচ টাওয়ার থাকবে; যেখান থেকে পুরো এলাকা মনিটরিং করা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় থাকবে। গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় থাকবে। ফায়ার ব্রিগেডের ফায়ার টেন্ডার প্রস্তুত থাকবে। এমার্জেন্সি মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে। বায়তুল মোকাররম কেন্দ্রিক আলাদা অনুরূপ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকার অন্যান্য ঈদগাহেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি জামাতও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে থাকবে না।’
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ঈদগাহ কেন্দ্রিক ঈদ জামাত উপলক্ষে নগরীর কিছু কিছু পয়েন্টে ডাইভারশন থাকবে; সেগুলো হলো-জিরো পয়েন্ট ক্রসিং, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, হাইকোর্ট ক্রসিং, প্রেসক্লাব লিংক রোড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পিছনের গলি, ইউবিএল ক্রসিং, কন্ট্রোলরুম গ্যাপ ও মৎস্যভবন ক্রসিং।
ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, জাতীয় ঈদগাহে আগত সাধারণ মুসল্লিদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকবে; সেগুলো হলো- গণপূর্ত ভবনের আঙ্গিনায়/অভ্যন্তরে সরকারি কর্মকর্তা ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকদের, আইইবি’র ভিতরে, জিরোপয়েন্ট ক্রসিং ও ইউবিএল ক্রসিংয়ের (মুক্তাঙ্গন) উভয় পাশে, দোয়েল চত্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম-উত্তর পাশে, ফজলুল হক মুসলিম হল থেকে বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেট ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে, মৎস্যভবন ক্রসিংয়ের পূর্ব দিকে কার্পেট গলি রোড ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে, মৎস্যভবন ক্রসিং থেকে শাহবাগ ক্রসিং রাস্তার উভয় পাশে এক লাইনে থাকবে।
জাতীয় ঈদগাহে আগত মুসল্লিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশিকাজে সহায়তা করুন। ঈদগাহ ময়দানে কোন প্রকার ব্যাগ, ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ নিয়ে আসবেন না। ঈদ জামাত শেষে তাড়াহুড়ো না করে সুশৃঙ্খলভাবে বের হবেন। সন্দেহজনক কিছু মনে হলে নিকটস্থ পুলিশ সদস্যকে জানাবেন।’
প্রয়োজনে ৯৯৯ বা ম্যাসেজ টু কমিশনার (০১৩২০-০১০১০১০, ০১৩২০-০২০২০২০) এ ফোন করার আহ্বান জানান তিনি। যেকোন প্রয়োজনে পুলিশ কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করার কথাও বলেন।


