যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি ছাত্র জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশে ফিরছে। মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসে। ফ্লাইটটি সোমবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন। মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনসুলেটের কনসাল জেনারেল সেহেলী সাবরিন বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করেন বলেও পোস্টে উল্লেখ রয়েছে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ইসলামিক সোসাইটি অব টাম্পা বে এরিয়ায় লিমনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রেস মিনিস্টার জানিয়েছেন। আগামী বুধবার দুপুর ২টায় ফ্লোরিডার টাম্পা এলাকায় তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস মিয়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনসুলেটের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করছে।
জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা নিখোঁজ হন গত ১৬ এপ্রিল। ১৭ এপ্রিল এক পারিবারিক বন্ধু তাদের নিখোঁজের খবর দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ।
আট দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৪ এপ্রিল হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় লিমনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরে শুক্রবার ট্যাম্পা বে এলাকার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর দুই দিনের মাথায় ২৬ এপ্রিল ওই সেতুর কাছের একটি জায়গা থেকে আরেকটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শনিবার হিলসবোরো কাউন্টির শেরিফ অফিস থেকে উদ্ধার করা মরদেহটি বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করা হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পরই সোয়াত টিম সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তার বাবা-মায়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
জামিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে বৃষ্টি সেখানে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।


