জনগণের অর্থ পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের অর্থ পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি: পিএমও
Advertisement
Advertisement

জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না, বরং তা দেশের মানুষের কল্যাণ ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘অনেকে নানা বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়। তারা প্রশ্ন তোলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে। বিগত এক যুগ ধরে জনগণের যে অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল, তা আর হতে দেব না। জনগণের টাকা দিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে।’

বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি চা-বাগান কর্মীদের মাঝে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ এবং এই কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন।

টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি সবাইকে চোখ-কান খোলা রেখে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় সরকারের এই উদ্যোগের সঙ্গে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে উপস্থিত শ্রীমঙ্গলের নারী-পুরুষ ও চা-শ্রমিকেরা সমস্বরে সমর্থন জানান।

বিএনপিকে গণমানুষের দল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সবসময় জনগণের কাতারে ছিল, সেজন্য জনগণ আমাদের সব ক্ষমতার উৎস। যতবার ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে, দেশের মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এনেছে।’

আরও পড়ুন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের সংকটে অনেক বড় নেতা দেশ ছাড়লেও খালেদা জিয়া যাননি। তিনি বলেছিলেন বাংলাদেশ তার প্রথম ও শেষ ঠিকানা। আমরা তার সৈনিক, তাই এই দেশ গড়া একমাত্র লক্ষ্য। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমের শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে।’

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক মাস আগে সিলেটের জনসভা থেকে কথা দিয়েছিলাম, বিএনপি সরকার গঠন করলে নারী চা-শ্রমিকদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। সেই কথা রাখতে পেরেছি। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের কাছে, বিশেষ করে নারী প্রধানদের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড এবং তিনজনের হাতে ঘর তৈরির জন্য দুই লাখ টাকা করে অনুদানের চেক তুলে দেন। এ ছাড়া চা-শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা সমাধান, সন্তানদের জন্য বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধীদের আর্থিক অনুদানের চেক দেওয়া হয়।

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে একটি জাম ও একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন। ২০ বছরেরও বেশি সময় পর তারেক শ্রীমঙ্গলে সফরে আসেন।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং উপকারভোগী নারীদের পক্ষে শিউলী রানি দাস ও ওয়াজেদা বেগম।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad