ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দশেরা উৎসবে রাবণের পাশে পোড়ানো হয়েছে ৩০ ফুট উঁচু একটি তেলাপোকার কুশপুত্তলিকা। দেশটির কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ব্যঙ্গ করে গড়ে ওঠা সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি) কটাক্ষ করে তাদের প্রতীক পোড়ানো হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে এটিকে বরং ‘বিনামূল্যের প্রচার’ (ফ্রি পাবলিসিটি) হিসেবে দেখছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার দিল্লির পিতমপুরায় রাবণ, তার ভাই কুম্ভকর্ণ ও ছেলে মেঘনাদের কুশপুত্তলিকার পাশে বিশাল একটি তেলাপোকার কুশপুত্তলিকাও রাখা হয়। কার্ডবোর্ড দিয়ে তৈরি কুশপুত্তলিকাগুলো অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে পোড়ানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।
এদিন সন্ধ্যায় নেতাজি সুভাষ প্লেসের দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাঠে অন্য কুশপুত্তলিকার সঙ্গে ৩০ ফুট উঁচু তেলাপোকার কুশপুত্তলিকাটিও পোড়ানো হয়। অনুষ্ঠানে বিজেপির রাজ্যসভার সদস্য অরুণ সিং, দিল্লির মন্ত্রী কপিল মিশ্র এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দিল্লি শাখার সভাপতি কপিল খান্নাসহ দলটির বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের আয়োজক শ্রী কেশব রামলীলা কমিটির দাবি, তেলাপোকার কুশপুত্তলিকাটি মূলত নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের প্রতীক। স্বচ্ছ ভারত ও স্বচ্ছ দিল্লি অভিযানের আওতায় পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতেই এটি তৈরি করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মডেল টাউন আসনের বিধায়ক অশোক গোয়েল দেবরাহা বলেন, তেলাপোকার কুশপুত্তলিকাটি একটি সামাজিক সমস্যার প্রতীক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ বছর তেলাপোকার কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর উদ্দেশ্য ছিল অপরিচ্ছন্নতা এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। তেলাপোকা সাধারণত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর কারণে অ্যালার্জি ও হাঁপানির মতো স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে।’
তার দাবি, কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান কিংবা সংগঠনকে কটাক্ষ করার উদ্দেশ্যে এই কুশপুত্তলিকা তৈরি করা হয়নি।
অন্যদিকে অভিজিৎ দীপকের ধারণা, কুশপুত্তলিকাটি তার নেতৃত্বাধীন সংগঠনকে কটাক্ষ করতেই তৈরি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তেলাপোকার কুশপুত্তলিকার একটি ভিডিও প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘বিনামূল্যে আমাদের প্রচার করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’
#WATCH | Delhi: The Shri Keshav Ramlila Committee is set to burn a unique 30-foot cockroach effigy alongside the traditional effigies of Ravana, Kumbhakarna, and Meghnad.
(Visuals from Netaji Subhash Place (NSP) grounds in Pitampura) https://t.co/METe6fojR8
— ANI (@ANI) October 20, 2026
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিংও। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি পুরো বিষয়টিকে ‘তামাশা’ বলে উল্লেখ করেন।
রত্না সিং বলেন, ‘দশেরায় তেলাপোকার কুশপুত্তলিকা পোড়ানো থেকেই বোঝা যায়, ক্ষমতাসীন দল কতটা বিচলিত হয়ে পড়েছে। জেনে ভালো লাগছে, আমরা এতটাই প্রভাব ফেলতে পেরেছি যে আপনারা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।’
‘স্পষ্টতই আমরা সঠিক কিছু করছি। আপনাদের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার কর্মীদেরও কিছুদিন ছুটি দিন। এত সব অর্থহীন পরিশ্রমের পর নিশ্চয়ই আপনারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন’, যোগ করেন এই সিজেপি নেত্রী।
এদিকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি চলতি মাসে রাজধানী নয়াদিল্লিসহ দেশজুড়ে বিক্ষোভে নামে ককরোচ জনতা পার্টির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক বিরোধীরাও। সেই বিক্ষোভ থেকে একাধিকবার আটক হয়েছেন এবং পরে মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, দুই মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও নেহা বোরাসহ হাজারও ককরোচ সমর্থক।
অবশ্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা ‘শান্তি বজায় রাখার’ মুচলেকার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৩ অক্টোবর থেকে কারাগারে রয়েছেন। সোমবার তাদের পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ানো হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সংগঠনের কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। সেখানে তিনি আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন এবং তাদের পরিবারের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।
ভিডিও বার্তায় কিছুদিনের জন্য বিক্ষোভে বিরতি দেওয়ারও ইঙ্গিত দেন দীপকে। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, সৌরভ ও আশুর (আশুতোষ রাঙ্কা) জন্য পরিস্থিতি যতটা কঠিন, আপনাদের সবার জন্যও ততটাই কঠিন। আমি দেখেছি, আমাদের কত স্বেচ্ছাসেবককে রাস্তায় মারধর করা হয়েছে এবং আটক করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের চেয়ে আমাদের পরিবারের জন্য পরিস্থিতি আরও বেশি কঠিন। তাই এখন আমার সব তেলাপোকার কাছে অনুরোধ, কয়েকটা দিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। সামনে উৎসব আসছে।’


