চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে সাত বছরের এক শিশুকে হত্যার ঘটনায় মামলার মূল আসামি বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) রাসেল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইকোপার্কে সাত বছরের শিশুহত্যার মূল আসামি বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত জান্নাতুল নাঈমা ইরা সীতাকুণ্ড উপজেলার বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন সকাল নয়টার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রোববার সকালে দিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতরে সহস্রধারা ঝরনা এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে পাহাড়ি পথের ধারে গলাকাটা অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। রোববার রাতে তার গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়। পরদিন তাকে ‘ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলে’ নেওয়া হয়। নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হলেও সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে পাঁচটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শিশুটির চাচা মঙ্গলবার সকালে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরিবারের দাবি, ধর্ষণের পর তার শ্বাসনালি কেটে দেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় রোববার রাতে শিশুটির মা রোকেয়া বেগম সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করেন। প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। শিশুটির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম।
সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাকিলা ইয়াসমিন সূচনা বলেন, ঘটনার পরপরই একাধিক টিম গঠন করে আলামত সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
শিশুটির মরদেহ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।


