প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন)।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বার্ধক্যজনিত কারণে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, শনিবার বাদ এশা চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা ও মীরসরাইয়ের কাঠাছড়া এলাকায় বাদ জোহর তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
বাংলাদেশে অন্ধত্ব প্রতিরোধে রবিউল হোসেন ছিলেন অগ্রদূত। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি গঠন করে দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ চক্ষু শিবির শুরু করেন তিনি। এর মাধ্যমে ১০ লাখের বেশি রোগীর চোখের অপারেশন হয়। ১৯৭৫ সালে তার নেওয়া কর্মসূচিতে প্রায় ৮ লাখ শিক্ষার্থীর চোখ পরীক্ষা করা হয়।
১৯৮৩ সালে তার উদ্যোগে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে আধুনিক চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি ও ৩৫০ শয্যার ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায়ও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তার আত্মজীবনী ‘প্লেজার অ্যান্ড পেইন’ প্রকাশিত হয়।
অসামান্য অবদানের জন্য তিনি জার্মান প্রেসিডেন্টের ‘অর্ডার অব মেরিট’, ‘লাইফ লং সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ ও এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমির ‘ডিস্টিংগুইশড সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ সহ বহু আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করেন।


