অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘২০দফা শান্তি পরিকল্পনার’ প্রথম ধাপে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হামাস। মিশরের শারম আল-শেখে গাজা যুদ্ধ বন্ধে সব পক্ষকে নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের তৃতীয় আলোচনায় এই সমঝোতা হয়।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, প্রথম ধাপের চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গাজায় দুই বছরব্যাপী চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসানের পথে যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি ও বন্দি বিনিময় করবে ইসরায়েল-হামাস।
তবে শান্তি পরিকল্পনার সব দফা নিয়ে এখনও দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছায়নি। বিশেষ করে গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসন, হামাসের অস্ত্র সমর্পণ ও ভবিষ্যৎ এবং গাজা থেকে পুরোপুরি ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নিয়ে কোনো সুরাহা হয়নি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, ‘উভয় পক্ষ (ইসরায়েল-হামাস) আমার শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে সম্মতি দিয়েছে এবং খুব শিগগিরই গাজায় জিম্মি সবাই মুক্তি পাবে। পাশাপাশি, ইসরায়েল তার বাহিনী নির্ধারিত সীমান্তের বাইরে ফিরিয়ে নেবে।’
ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতির চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার দিনকে তিনি ‘আরব ও মুসলিম বিশ্ব, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন’ বলে উল্লেখ করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অনুমোদনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই হামাসের কাছে থাকা সব জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেবে। তবে মৃত জিম্মিদের দেহ উদ্ধারে আরও সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে হামাস।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, শনিবার থেকেই জিম্মি মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

এছাড়া চুক্তিতে হামাস ইসরায়েলি কারাগারে থাকা বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার মুক্তি দাবি করেছে যাদের এর আগে কোনো বন্দি বিনিময়ে মুক্ত করা হয়নি। এদের মধ্যে রয়েছেন বহু ইসরায়েলি হত্যাকাণ্ডে দণ্ডপ্রাপ্ত ফাতাহ নেতা মারওয়ান আল-বারঘুতি এবং পিএলও নেতা আহমেদ সাদাত।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার বৈঠকে যুদ্ধবিরতির চুক্তিটি অনুমোদনের ঘোষণা দেন। হামাসের সঙ্গে চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার সহায়তায় আমরা সব জিম্মিকে ঘরে ফিরিয়ে আনবো।’
ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, ‘তারা (ইসরায়েল) যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে আমরা জিম্মি-বন্দি বিনিময়ের পাশাপাশি ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানাই। সেই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মধ্যস্থতাকারী অন্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই, ইসরায়েল যেন চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়ন করে।’

তবে হামাস এখনও ট্রাম্পের প্রস্তাবিত অস্ত্র পরিত্যাগের শর্ত মেনে নেয়নি। সশস্ত্র গোষ্ঠীটির দাবি, যতক্ষণ ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে সরে না যাবে, ততক্ষণ তারা অস্ত্র ছাড়বে না। এছাড়া গাজা থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার নিয়ে স্পষ্ট সময়সীমা ও কার্যকর নিশ্চয়তার দাবিও জানান হামাসের শীর্ষ নেতারা।
এদিকে ট্রাপ প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে গাজার পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার নেতৃত্বে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের কথা বলা হয়েছে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার অন্তর্বর্তী ওই প্রশাসনের নেতৃত্ব দেবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
তবে হামাস এ শর্তেও বিরোধিতা করেছে। তাদের বক্তব্য- ‘কেবল একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকারই গাজা পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারে। এতে কাদের ওপর শাসনভার থাকবে তা আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সমর্থনে নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে ফিলিস্তিনিদের বাইরে কাউকে গাজায় শাসন করতে দেওয়া হবে না।’
এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দুই পক্ষকেই শান্তিচুক্তির প্রতিটি শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে গাজায় অবাধ মানবিক সহায়তা প্রবেশের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।


