জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে পুলিশি হেনস্তার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিতে আরও দুই দিন সময় লাগবে।
সোমবার বিকালে টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান এবং উপকমিশনার আলমগীর হোসেন।
তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে চার কার্যদিবস সময় বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটির দিন থাকায় তারা আগামী বুধবার পর্যন্ত সময় পাবেন। আশাকরি ওই দিন অথবা পরদিন বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে।
তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শীসহ ২৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্তের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে যে খুদে বার্তার (এসএমএস) ওপর ভিত্তি করে ক্রিকেটার নাঈমকে পুলিশ তল্লাশি করেছিল, সেটি কোন ব্যক্তি বা সংস্থা থেকে এসেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মূলত এই কারণে তদন্তের স্বার্থে আরও চার কার্যদিবস বাড়তি সময় চাওয়া হলে পুলিশ কমিশনার তা মঞ্জুর করেন।
এর আগে, সিএমপি কমিশনার কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছিলেন, যার সময়সীমা গত ১৮ জুন শেষ হয়। কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ কমিশনার তদন্তের সময় আরও চারদিন বাড়িয়ে এই সময়ের মধ্যে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
ঢাকা থেকে প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে গত ১২ জুন শুক্রবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান নাঈম হাসান। এরপর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বহদ্দারহাটের বাসার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
রাত ১১টার দিকে অটোরিকশাটি লালখান বাজার এলাকায় এলে ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য গাড়ি থামিয়ে চালকের কাগজপত্র কেড়ে নেয়। পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাঈম হাসানকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল।
এক পর্যায়ে নাঈমকে থানায় নিয়ে গিয়েও হেনস্তা করা হয়। পরে বিসিবি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান তিনি।
এই ঘটনায় উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরদিন ১৩ জুন রাতে খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়।
এ ছাড়া, গ্রেপ্তার করা হয় পুলিশের সোর্স সোহেল হোসেন সরকারকে। তাকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দামপাড়া পুলিশ লাইনসে হামলা এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটের ঘটনায় পুলিশের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে সে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।
পাশাপাশি ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।


