কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল হালিম (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে খয়েরপুর গ্রামে মান্নান ও ইউসুফ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল হালিমকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ বর্তমানে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহত আব্দুল হালিম খয়েরপুর গ্রামের মৃত কলম সর্দারের ছেলে। তিনি ইউসুফ মেম্বারের পক্ষের বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইকবাল হোসেন বলেন, আব্দুল হালিম নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। আরেকজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মান্নান ও ইউসুফ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। গত তিন দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর মধ্যে কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়দের দাবি। এরই জেরে শনিবার সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত আব্দুল হালিমকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মান্নান গ্রুপের বকুল নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।এলাকাটি দুই থানার সীমান্তবর্তী হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুষ্টিয়া মডেল থানা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসআরবি টিমও রয়েছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এই ঘটনায় একজন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের অভিযান চলছে।’
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


