ঢাকার মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আসামিরা অর্থের বিনিময়ে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবারের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দেবে।
হামলার সময় পুলিশ উপস্থিত ছিলো এমন প্রশ্নে, ‘আমরা দেখছি পুলিশের কোনো অবহেলা ছিল কিনা। সময়মতো এসেছিল কিনা। এই বিষয়গুলো আমরা দেখছি।’
প্রতিবেদনে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ঘটনার নেপথ্যে একজন সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতারা রয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে অপরাধীর কোন রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না। এরই মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এজাহারে নাম থাকা ব্যক্তিকে ধরতে একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।’
রাড্ডা ক্লিনিকের দাবি, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাথায় লাল কাপড় বেঁধে মুখোশ পরা ২৫০ জনের বেশি লোক দুর্বৃত্তদের মতো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালিয়ে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে তারা ক্লিনিকের মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, ফ্রিজ, এসি, নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালপত্র লুট করে এবং স্থাপনা ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকা প্রদানের সরকারি রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি স্টিলের ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট, দুটি টিভি, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টারসহ চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র নিয়ে যায়।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানান, সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। এটি এলাকার হাজারো নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।


