জাপানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে রেয়ার আর্থ (দুর্লভ খনিজ) চুক্তিতে সই করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাপান সফরে টোকিওর আকাসাকা প্যালেসে মঙ্গলবার সকালে ওই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সই করেন দুই নেতা। এই চুক্তির আওতায় মোবাইল ফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি, জেট ইঞ্জিন তৈরিতে চীনের দুর্লভ খনিজ বা রেয়ার আর্থের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কমাতে সহযোগিতা করবে জাপান।
চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এ চুক্তিতে সই করেন ট্রাম্প। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন চীনের পণ্যে শতভাগ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। চীনও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যালিয়াম ও ম্যাগনেট জাতীয় দুর্লভ খনিজ রপ্তানিতে আরও কঠোর হয়েছে। তারপরই এসব চুক্তি করছেন ট্রাম্প।
ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়, জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তি সই সানায়ে তাকাইচির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক কূটনৈতিক মুহূর্ত। তিনি এই চুক্তিকে জাপান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ‘নতুন সোনালী যুগের সূচনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তাকাইচি ট্রাম্পের প্রশংসা করে জানান, রাজনীতিতে তার পথ প্রদর্শক প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে প্রায়ই ট্রাম্পের ‘দৃঢ় ও গতিশীল কূটনীতির’ ভক্ত ছিলেন।
এসময় ট্রাম্পকে আগামী নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্যও মনোনীত করার ঘোষণা দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে সে সংক্রান্ত কাগজপত্রও তার হাতে তুলে দেন তাকাইচি। ২০১৯ সালে শিনজে আবেও একইভাবে ট্রাম্পকে নোবেলের জন্য মনোনীত করেছিলেন। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর কূটনৈতিক কৌশল হিসেবেই টোকিও’র এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

তাকাইচি আরও জানান, জাপান যুক্তরাষ্ট্রকে ২৫০টি চেরি ফুলের গাছ উপহার দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জমকালো আতশবাজির আয়োজন করবে।
চুক্তির পর ট্রাম্পও জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘জাপানের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। আমরা সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র।’
বৈঠকে দুই নেতা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেন। চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব মোকাবেলায় তাকাইচি জাপানের প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট দ্রুত বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। একইসঙ্গে জাপান যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন খাতে ৫৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
এদিকে পূর্ব এশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জাপান সফর শেষে তিনি আগামী বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়া সফর করবেন। ওই সফরেই তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক করবেন।
ওয়াশিংটন-বেইজিং সাম্প্রতিক বাণিজ্যযুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে বিশ্বের অন্যতম দুই পরাশক্তির এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রেয়ার আর্থ রপ্তানির ক্ষেত্রে চীনের আরোপিত বিধিনিষেধও এই বৈঠকের পর শিথিল হতে পারে বলে ধারণা তাদের।


