স্বামীকে হত্যার দায়ে ফাঁসির আদেশ পাওয়ার পর এক দশক কনডেমড সেলে থাকা নারীকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আপিল বিভাগ।
বুধবার প্রধান বিচারপতিসহ চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ফাতিহা মাশকুরা নামে সেই নারীর আপিল গ্রহণ করে রায় দেয়।
২০১৫ সালের ১৮ মে সিলেটের ধোপাদিঘির উত্তরপাড় আঞ্চলিক শাখার আমির ইব্রাহিম খলিলের মরদেহ উদ্ধার হয় তার নিজ বাসার শয়নকক্ষ থেকে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাশকুরাকে আটক করে পুলিশ। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।
কোতোয়ালি থানায় মামলার পর একই বছরের ২৪ আগস্ট একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০১৬ সালের ৬ জুন সিলেট মহানগর দায়রা আদালত মাশকুরাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
এরপর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হিসেবে মামলাটি হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি আসামি জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।
২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি আসামির আপিল খারিজ করে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রাখে। এরপর সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যান মাশকুরা।
মাশকুরার আইনজীবী এস এম শাহজাহান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ মামলায় আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছাড়া আর কোনো তথ্য প্রমাণ নেই।’
‘পুলিশের উপস্থিতিতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে আদালত আসামিকে খালাস দিয়েছে,’- বলেন তিনি।
বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন এবং আপিল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়া নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা আছে।
এই বিলম্বের কারণে যেমন ‘অপরাধ করলে সাজা হয় না’ এমন একটি ধারণা সমাজে ছড়িয়েছে, তেমনি সাজাপ্রাপ্তরাও কনডেমড সেলে নিঃসঙ্গ অবস্থায় দুর্বিসহ জীবন যাপন করতে বাধ্য হন। মাশকুরার মতো যারা দীর্ঘদিন বন্দি থাকার পর নির্দোষ প্রমাণ হন, তাদের জন্য এই যন্ত্রণা আরও বেশি।
গত ১৬ জুনও ডেথ রেফারেন্স শুনানিতে হাইকোর্টে খালাস পেয়েছেন বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া যশোরের অভয়নগরের মো. আবদুল্লাহ। শেষমেশ অপরাধের প্রমাণ করতে না পারলেও তাকে বহু বছর কারাগারে কাটাতে হয়।
২০০৮ সালের ১৫ জানুয়ারি আব্দুল্লাহর স্ত্রী সবুরা বেগম আগুনে পুড়ে গুরুতর দগ্ধ হন। পরে মারা যান। ঘটনার পরদিন সবুরার বাবা শামসুর শেখ মামলা করেন, যার একমাত্র আসামি ছিলেন আবদুল্লাহ।
১১ বছর পর ২০১৯ সালে আব্দুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দেয় যশোর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১। সেই রায় অনুমোদনের জন্য পরে তা পাঠানো হয় হাইকোর্টে। আরও সাত বছর লেগে যায় এই শুনানি শেষ করতে।
উচ্চ আদালতের রায়ের পর আসামির আইনজীবী বলেন, ঘটনাস্থলে আসামির উপস্থিতি প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। যথাযথ সাক্ষ্য ছিল না, তদন্তেও ত্রুটি ছিল। ফলে স্ত্রীকে হত্যায় আবদুল্লাহর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। এ কারণে অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।


