মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে নগরের অবস্থিত শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের অবস্থানের কারণে সিডিএ অ্যাভিনিউয়ের বহদ্দারহাটমুখী লেনে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং ওই সড়কে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন বন্যাকবলিত অঞ্চলের অনেক পরীক্ষার্থী জলাবদ্ধতা, যোগাযোগব্যবস্থার বিপর্যয় এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছেন না। এমন বাস্তবতায় বারবার অনুরোধ জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী মো. ওমায়ের বলেন, ‘আমরা শুধু একটি বোর্ডের নয়, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানাচ্ছি। প্রশ্নপত্রে ভুলের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বন্যায় যেসব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র নষ্ট বা হারিয়ে গেছে, তাদের জন্য দ্রুত নতুন কপি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।’
দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষা বোর্ডের সামনে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে ‘ফেইক, ফেইক’ স্লোগান দিয়ে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সিডিএ অ্যাভিনিউয়ের ২ নম্বর গেট থেকে বহদ্দারহাটমুখী লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ওই সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষা বোর্ডে প্রবেশ করে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাদের দাবিগুলো লিখিত ও মৌখিকভাবে তুলে ধরেন।
বৈঠক শেষে শিক্ষা বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ জহিরুল হক শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। প্রশ্নপত্রে ভুলের অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘বিক্ষোভ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।


