ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের বিএনপি, গণসংহতি আন্দোলনসহ যুগপৎ আন্দোলনের প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বাঞ্ছারামপুরে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করেছেন।
মঙ্গলবার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভোজনবাড়ি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক ভিপি একেএম মূসা এবং বিএনপি ও গণসংহতি আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে বিরোধী দলগুলো আন্দোলন করে আসছে। বিগত তিনটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতার পর এ লড়াইয়ের প্রাসঙ্গিকতা আরও বেড়েছে।’
তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, গুম-খুন, জেল-জুলুমসহ নানা নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক জমিন তৈরি হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে এবং বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের সবার দায়িত্ব একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা। আমরা নিজেরা কোনো অনিয়ম করব না, অন্য কাউকেও করতে দেব না।’
জোনায়েদ সাকি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর কিছু প্রার্থী ভোটকেন্দ্রে বাঁশের লাঠি নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ছাড়া, বাঞ্ছারামপুরে একটি অটোরিকশায় বাঁশ বহনের ঘটনাকেও তিনি সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরির ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি জনগণের ভোটেই বিজয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে। জনগণ যদি আমাদের সমর্থন করেন আমরা বিজয়ী হবো, না করলে অন্য কেউ হবেন–এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’
তিনি আরও বলেন, কিছু কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বিষয়টি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। উল্লেখিত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে–পাহাড়িয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনারামপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দরিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনাইখালী হাজী মহব্বত আলী সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাইকারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হায়দারনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাতুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাহেরচর (দক্ষিণ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জোনায়েদ সাকি বলেন, তাদের লক্ষ্য হলো ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।


