ঈদুল আজহার আর মাত্র একদিন বাকি থাকতেই ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ঘরমুখী সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বৃষ্টি ও গত রাতে সংযোগ সড়কে কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশে ধীরগতিতে গাড়ি চলছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে গোড়াই, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল বাইপাস, রাবনা বাইপাস, এলেঙ্গা এবং যমুনা সেতুর পূর্ব পাড় এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মূল যানজট তৈরি হয়েছে গাজীপুর-চন্দ্রা-বাইপাইল এলাকায়। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, সরু রাস্তা, ঈদে ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে, যার ফলে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় জ্যামে আটকে আছেন।

বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন
যাত্রীদের নিরাপদ, আরামদায়ক ও যানজটমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মাঠে নেমেছে। গাজীপুর ব্যাটালিয়নের (৬৩ বিজিবি) উদ্যোগে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, জননিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে তারা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।
পাশাপাশি, যানজট নিরসনে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে। যমুনা সেতুতে বিশেষ পুলিশি নজরদারি রাখা হয়েছে। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে টহল দিচ্ছে।
এ ছাড়া কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল বন্ধ এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে মোবাইল ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন।

যমুনা সেতু পার হয়েছে ৫৩,২৪৬ যানবাহন
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত মোট ৫৩ হাজার ২৪৬ যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের দিকে পার হয়েছে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন, যার টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ঢাকার দিকে পার হয়েছে ২১ হাজার ৬০ যানবাহন, যার টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, রাতে বৃষ্টি এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে কিছুটা যানজট হলেও দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, ঈদযাত্রা আরামদায়ক করতে এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন এবং সেতুতে বিশেষ নজরদারি রয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে সেজন্য তারা সার্বক্ষণিক সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, বিশেষ করে গাজীপুর-চন্দ্রা-বাইপাইল করিডোরে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং বৃষ্টির সময় একটি পৃথক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকলে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসত।

সাভারের সড়কগুলোতে তীব্র যানজট
সাভারের বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর এবং নবীনগর-চন্দ্রা সড়কেও তীব্র যানজটের কারণে ঘরমুখী যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মঙ্গলবার সারাদিনই এখানে একই রকম যানজটের চিত্র দেখা গেছে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটি ঘোষণার পর আশুলিয়া শিল্প এলাকার পোশাক কারখানাগুলো থেকে উত্তর ও পশ্চিমঙ্গের লাখ লাখ শ্রমিক পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
সকাল থেকেই আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল এবং নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে ব্যাপক যাত্রীর চাপ লক্ষ্য করা গেছে। তবে সকাল ১১টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে চাপ কিছুটা কমে। এরপর দুপুর থেকে প্রতিটি বাস কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড় আবার নাটকীয়ভাবে বাড়তে থাকে।

এর ফলে দুই মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজট ছড়িয়ে পড়ে এবং যানবাহনগুলো থেমে থেমে চলতে বাধ্য হয়। মহাসড়কের নবীনগর, পল্লীবিদ্যুৎ, বাইপাইল, ইপিজেড, বলিভদ্র, শ্রীপুর, জিরানী বাজার ও কবিরপুর বাস স্ট্যান্ডগুলোতে হাজার হাজার ঘরমুখী যাত্রী গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছেন।
এদিকে, যাত্রীদের অভিযোগ, পরিবহন চালক ও সহকারীরা এই নিরুপায় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে।
যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে, তবে অতিরিক্ত যানবাহন ও যাত্রীর চাপের কারণে রাস্তাগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে এবং বহু মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে।


