বাংলাদেশের আসবাবপত্র শিল্পের বিকাশ ও রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তার মতে, এই উদ্যোগ শিল্পখাতটিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে শুরু হওয়া ২০তম জাতীয় ফার্নিচার মেলা ২০২৫-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের আসবাবপত্র শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এ শিল্পের উন্নয়নে বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হবে। দেশের সম্পদ ও সুযোগকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে দ্রুততম সময়ে বৈশ্বিক আসবাবপত্রের বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিগত সরকার অর্থনীতিতে একটি কৃত্রিম “বুদবুদ” তৈরি করেছিল, যা প্রকৃত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করেও ব্যাংকের শাখা ও অফিস বাড়িয়েছে। সঙ্গত কারণেই বর্তমান সরকারকে অর্থনীতিতে সংকোচনমূলক নীতি গ্রহণ করতে হয়েছিল। অন্যথায় অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারত না।’
ফার্নিচারের ফাংশনাল ও এসথেটিক অ্যাট্রিবিউট অর্থাৎ ব্যবহারিক ও নান্দনিক বৈশিষ্ট্যের উন্নয়নে ঘাটতি আছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় উদ্ভাবন হচ্ছে না। সরকার নীতিগতভাবে যত আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার, তা করছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের উচিত হবে উদ্ভাবনের পরিধি বাড়ানো। ফার্নিচার শিল্পের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন বাজার খুঁজছে। এই শিল্পে নান্দনিকতা ও রুচির বহিঃপ্রকাশ আছে। এটি আরও শাণিত করতে হবে।’

শেখ বশিরউদ্দীন আরও বলেন, ‘ক্রেতারা দামের জন্য নয়, উদ্ভাবনের অভাবে আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তাই ফার্নিচার শিল্পে উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সরকার কিছু দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এই চুক্তিগুলো ফার্নিচার শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে আমি আশাবাদী।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. কে এম আখতারুজ্জামান।
এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে দেশের ৪৮টি শীর্ষ ফার্নিচার কোম্পানি। তারা সর্বাধুনিক নকশা ও পণ্যের প্রদর্শনী করছে মোট ২৭৮টি স্টলে। মেলা বসেছে বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের তিনটি হলে–গুলনকশা (হল-১), পুষ্পগুচ্ছ (হল-২) এবং রাজদর্শন (হল-৩)।
পাঁচ দিনের এই মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ‘আমার দেশ, আমার আশা–দেশীয় ফার্নিচারে সাজাব বাসা’ স্লোগানে আয়োজিত এবারের আসরটি দেশের আসবাবপত্র শিল্পের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী।


