স্বাস্থ্য খাতে ‘সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারে’ জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকার গুলশান থেকে বুধবার রাতে মিঠুকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
এর আগে ঠিকাদার মিঠুর বিরুদ্ধে ৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবারই সংস্থাটির উপপরিচালক মো. সাইদুজ্জামান বাদী হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১এ মিঠুর বিরুদ্ধে মামলা করেন।
বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ কমিশনার তালেবুর রহমান বলেন, ‘দুদকের মামলায় ও তাদের অনুরোধে রাতেই আওয়ামী সরকারের আমলে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির হোতা মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইস’ ও ‘টেকনোক্রেট’ কোম্পানির মালিক মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম কৃষি জমি কেনা, লিজ, প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ি নির্মাণে ১৮ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জন করেন।
এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ার ও বিনিয়োগ, গাড়ি ক্রয়, ব্যাংক হিসাব, স্বর্ণালংকারসহ তার আরও ৫৭ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার ২৩৮ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
সব মিলিয়ে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৭৫ কোটি ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৮ টাকা।
এছাড়া মিঠুর নামে ৭১ কোটি ৪৫ লাখ ১৪ হাজার ৪৩৪ টাকার পারিবারিক ব্যয়ের হিসাব পাওয়া গেছে।
২০১৬ সালে বহুল আলোচিত ‘পানামা পেপারসে’ যেসব বাংলাদেশির নাম এসেছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু। অভিযোগ রয়েছে, নিজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নকাজের নামে প্রভাব খাটিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
এর আগে সেন্ট্রাল মেডিসিন স্টোরসের (সিএমএসডি) সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদউল্লাহ মারা যাওয়ার আগে লিখিতভাবে সরকারকে স্বাস্থ্যখাতে কেনাকাটায় অনিয়ন্ত্রিত দুর্নীতির মূল হিসেবে ‘মিঠু চক্রের’ দখলকে দায়ী করেছিলেন। তার ওই প্রতিবেদনের পরই বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা শুরু করে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, দুদকসহ একাধিক আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।


