ফেনীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ জন আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আদেশ সঠিক ছিল না উল্লেখ করে বিচারক মামুনুর রশিদকে ফৌজদারি মামলা পরিচালনা থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
নির্দেশে বলা হয়, নুসরাত হত্যা মামলায় জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক মানসিকতা ও বিবেচনাবোধ যথাযথ ছিল না।
নিম্ন আদালতের এই বিচারকের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়কে আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার এ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ের সঙ্গে এ নির্দেশ দেয় বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর দেওয়া রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মহিউদ্দিন শাকিলসহ ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন।
ডেথ রেফারেন্স এবং আসামি ও জেল আপিলে হাইকোর্টের রায়ে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ জন আসামির মধ্যে কেবল অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া চারজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ১০ জন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।


