টাইমস অব বাংলাদেশ-এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই বলে দেওয়া চিঠি প্রত্যাহার করে নতুন চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে সংস্থাটি স্বীকার করেছে, বেবিচকের দুই কর্মকর্তা, মোহাম্মদ আমিনুল হাসিব ও মইদুর রহমান মো. মওদুদ দুদকের করা পৃথক দুর্নীতি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং মামলা দুটি এখনো তদন্তাধীন।
বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নতুন চিঠিটি আগের চিঠির একই তারিখ ও একই স্মারক নম্বরে ‘প্রতিস্থাপিত’ হিসেবে জারি করা হয়েছে। তবে চিঠিতে চলতি বছরের ১২ আগস্ট স্বাক্ষরের তারিখ রয়েছে।
নতুন চিঠিতে দুদক বলেছে, আমিনুল হাসিব দুদকের ঢাকা-১ কার্যালয়ের ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারির ৮৫ নম্বর মামলার নয় নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি এবং মামলাটি তদন্তাধীন। একইভাবে মইদুর রহমান মো. মওদুদ একই কার্যালয়ের একই দিনের ৮৪ নম্বর মামলার নয় নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। তার মামলাটিও তদন্তাধীন।
অথচ গত ১১ মার্চ একই স্মারক নম্বরে দেওয়া আগের চিঠিতে দুদক জানিয়েছিল, এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। আমিনুল হাসিবকে ৩০ জুন নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (গ্রেড-৪) পদে পদোন্নতি দেয় বেবিচক।
এই অসঙ্গতি নিয়ে গত মঙ্গলবার টাইমস অব বাংলাদেশ-এ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে দেখানো হয়, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ ও ভবন নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাত ও সিলেট বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পে ২১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক নিজেই আমিনুল হাসিব ও মইদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। অথচ প্রায় ১৩ মাস পর একই সংস্থা তাদের পদোন্নতি-সংক্রান্ত যাচাইয়ে লিখিতভাবে জানায়, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর মঙ্গলবার দুদকের মহাপরিচালক মোকাম্মেল হক জানিয়েছিলেন, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার তথ্য উল্লেখ করে সংশোধিত চিঠি পাঠানো হবে। কীভাবে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা নেই বলে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এর একদিন পরই নতুন চিঠি জারি করল দুদক। চিঠিটির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ছাড়াও দুদক চেয়ারম্যান, তদন্ত ও অনুসন্ধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনার এবং দুদক সচিবের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
তবে নতুন চিঠিতে আগের ভুল তথ্য কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, কারা সেই তথ্য যাচাই ও অনুমোদন করেছিলেন কিংবা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।


