কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতির অবনতি, মৃত্যু ১৮১

কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতির অবনতি, মৃত্যু ১৮১
ছবি: এপি-ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আরও বেড়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭৮২ জনে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৮১ জন।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

তবে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ গত ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার আগেই কয়েক সপ্তাহ ধরে রোগটি ছড়িয়ে পড়ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষের সন্ধান (কন্টাক্ট ট্রেসিং) কার্যক্রমের আওতা বর্তমানে ৫৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বিরল ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনের ইবোলা ভাইরাস। এ ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই। অতীতে কঙ্গোর অধিকাংশ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ছিল ‘জাইর’ প্রজাতির ভাইরাস, যার জন্য টিকা আছে।

আরও পড়ুন

বর্তমানে প্রাদুর্ভাবের মৃত্যুহার প্রায় ২৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত ৫৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশ, যেখানে মোট সংক্রমণের ৯০ শতাংশেরও বেশি শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর কিভু ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিবেশী উগান্ডাতেও রোগটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের কারণে ইতুরি অঞ্চলে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘন বনাঞ্চল, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দুর্গম গ্রামগুলোতে পৌঁছাতেও অনেক সময় কয়েকদিন লেগে যাচ্ছে।

এ ছাড়া খনিজসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলের হাজারো খনি শ্রমিক নিয়মিত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করায় রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় কিছু বাসিন্দার মধ্যে অবিশ্বাস, স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা এবং সশস্ত্র সংঘাতও পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad