জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের একটি টাকার ওপরেও তারা হাত দেবেন না। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ যদি সুযোগ দেন, দুর্নীতিকে মাটির নিচে গেড়ে দেব। পরিচ্ছন্ন হাতের ছোঁয়ায় দেশ গড়ে উঠবে। আল্লাহর কসম, জনগণের একটা টাকার ওপরেও হাত বসাব না। চাঁদাবাজদের অস্তিত্ব বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ওপর সহ্য করা হবে না। চাঁদা, দুর্নীতি ও মামলা জামায়াত করেনি; ভবিষ্যতেও করবে না। এসবের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে।’
শনিবার দুপুর পৌনে ১টায় বগুড়া শহরের আলতাফুনন্নেছা খেলার মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির সভাপতি আব্দুল হক।
জামায়াত আমির বলেন, ‘নিরাপত্তা, নিরাপদ সমাজ গঠনের দায়িত্ব সরকারের। আমরা সরকারে গেলে বগুড়াকে চাঁদামুক্ত করে ইনসাফের ভিত্তিকে জনগণের পাওনা বুঝিয়ে দিতে চাই। আমরা বিভক্তির রাজনীতি চাই না। শহীদদের রেখে যাওয়া কাজ আমরা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘বগুড়া উত্তরবঙ্গের রাজধানী, শহরের সাতমাথা সমগ্র উত্তরবঙ্গকে একীভূত করেছে। আল্লাহ যদি আমাদের দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে আমরা ঐতিহ্যবাহী বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করব।’
‘গত সাড়ে ১৫ বছরে ২৮ লক্ষ টাকা দেশের বাহিরে পাচার হয়েছে। পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা উদ্ধার করে আনব। রাষ্ট্রীয় তহবিল চোরদের হাত কেটে দেওয়া হবে। আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। বেকারমুক্ত যুবসমাজের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরে পরিণত করতে চাই। তারা দেশে বিদেশে মর্যাদার সঙ্গে কাজ করবে।’
জামায়াত আমির যুবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের বেকার তকমা দিয়ে রাখা হবে না। যার মেধা যেখানে প্রযোজ্য, রাষ্ট্র সেখানেই তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। কোনো ভুয়া সার্টিফিকেটের বোঝা বইতে হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের পক্ষে বিজয় আসবে ইনশাল্লাহ। দাঁড়িপাল্লা ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক। আপনারা দাড়িপাল্লাকে বিজয়ী করবেন।’
এ সময় তিনি দাড়িপাল্লার পক্ষে বগুড়ার সাতটি আসনে জামায়াত প্রার্থী বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে মো. শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান, বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে নূর মোহাম্মদ, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে মো. মোস্তফা ফয়সাল, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে দবিবুর রহমান, বগুড়া-৬ (সদর) আসনে মো. আবিদুর রহমান এবং বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে গোলাম রব্বানীদের পরিচয় করে দেন। সেই সঙ্গে প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক হাতে তুলে দেন।
জনসভাকে ঘিরে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষদের ভিড়ে অনুষ্ঠানস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়।
এদিন সকাল ১০টার পর স্থানীয় নেতারা বক্তব্য শুরু করেন। প্রধান অতিথির ১২ মিনিটের বক্তব্যে পরে জোহরের নামাজের আগে এই জনসভাটি শেষ হয়।
এ জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এবং আব্দুল হালিম। এ ছাড়া, জাগপার সভাপতি রাশেদ প্রধানসহ স্থানীয় ১০ দলীয় জোটের নেতারা ও জামায়াতের অঙ্গ সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
বগুড়া জনসভার আগে সকাল সাড়ে ১১টায় জেলার মোকামতলায় একটি পথসভা করেন। এরপর তিনি বগুড়ার জনসভা শেষ করে দুপুর ২টায় শেরপুর উপজেলায় আরেকটি জনসভায় অংশ নেন। পরে সিরাজগঞ্জ শহরে ও উল্লাপাড়ায় জনসভা করে সন্ধ্যায় পাবনায় পৌঁছান।


