অবশেষে তিন ঘণ্টা পর বুধবার বেলা ২টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে গেছেন ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। সাংবাদিকদের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, চার দফা দাবিতে তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড়ে আবারো বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত অবরোধ করবেন তারা।
এর আগে চার দফা দাবিতে এ দিন সকাল ১১টার দিকে তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তায় সড়ক আবারও অবরোধ করেন তারা। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক ও রেলপথও অবরোধ করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা।
অবরোধের কারণে সংশ্লিষ্ট সড়কে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। যানজটের কারণে দুর্ভোগে পড়েন শত শত সাধারণ মানুষ।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
- ১. প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন কর্তৃক ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রকাশ্যে গুলি করা ও জবাই করে হত্যার হুমকি প্রদানকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
- ২. বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের অযৌক্তিক তিন দফা দাবির পক্ষে পরিচালিত সব কার্যক্রম রাষ্ট্র কর্তৃক অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
- ৩. কারিগরি ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশের উত্থাপিত যৌক্তিক ছয় দফা দাবির রূপরেখা ও সুপারিশ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে।
- ৪. ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ান-চ্যানেল এডুকেশন চালু করতে হবে।
উপসহকারী প্রকৌশলী পদ নিয়ে অব্যাহত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন গাজীপুরের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা।
বুধবার দুপুরে এই কর্মসূচি শুরু করে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কল্যাণ ফাউন্ডেশন। পদমর্যাদা রক্ষা ও দাবি আদায়ে সরকারের সুস্পষ্ট উদ্যোগ না থাকলে আগামীতে দেশব্যাপী কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা। তাদের যৌক্তিক দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা।
তাদের কর্মসূচির কারণে ভোগান্তিতে পড়েন মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহন চালকেরা। একই দাবিতে মঙ্গলবার বিকালেও তারা ট্রেন লাইন অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। উদুভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে জিএমপি পুলিশ।
মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার ওসি শাহিন আলম জানান বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থান নিয়েছে এবং তাদেরকে সরিয়ে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য কথা বলা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল ছয় দফা দাবিতে তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছিল সরকারি ও বেসরকারি পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা।
সেদিন সড়ক অবরোধকারীদের মধ্যে সরকারি–বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ-টিএসসিসহ বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাভুক্ত শিক্ষার্থীরা ছিলেন।
সেসময় তাদের ছয় দফা দাবি ছিল: ১. পদোন্নতি বাতিল: জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে ক্র্যাফট ইনস্ট্রাক্টরদের ৩০% প্রমোশন কোটা বাতিল এবং তাদের অবৈধ নিয়োগ ও পদোন্নতির রায় বাতিল, ২. ভর্তিনীতি সংস্কার: যে কোনো বয়সে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি বাতিল করে চার বছর মেয়াদি আন্তর্জাতিক মানের কারিকুলাম চালু ও একাডেমিক কার্যক্রম ধাপে ধাপে ইংরেজি মাধ্যমে করা, ৩. ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মর্যাদা: ১০ম গ্রেডের সংরক্ষিত পদে নিম্নপদে নিয়োগ বন্ধ ও নিয়োগে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, ৪. প্রশাসনে কারিগরি শিক্ষা: কারিগরি শিক্ষাবিহীন ব্যক্তিদের বোর্ড, অধিদপ্তর ও কলেজে নিয়োগ নিষিদ্ধ এবং কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে সব শূন্যপদ পূরণ, ৫. স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় ও সংস্কার কমিশন: ‘কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা’ নামে পৃথক মন্ত্রণালয় এবং ‘কারিগরি শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠন এবং ৬. টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়: পলিটেকনিক পাস শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং চারটি নবনির্মিত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।



