এনসিপি প্রস্তাবিত মার্কা শাপলা কি জাতীয় প্রতীক? সংবিধানে কী আছে?

এনসিপি প্রস্তাবিত মার্কা শাপলা কি জাতীয় প্রতীক? সংবিধানে কী আছে?
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দ্বারে কড়া নাড়ছে নতুন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। নিবন্ধন আবেদনের অংশ হিসেবে দলটি যে তিনটি নির্বাচনী প্রতীকের প্রস্তাব দিয়েছে, তার একটি শাপলা ফুল। অন্য দুটি প্রস্তাবিত প্রতীক কলম ও মোবাইল ফোন।

কিন্তু শাপলা ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কারণ: শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল, জাতীয় প্রতীকেরও অংশ।

এনসিপিবিরোধীরা বলছেন, শাপলা জাতীয় ফুল এবং জাতীয় প্রতীক হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃত। তাই এটি কোনো দলের নির্বাচনী প্রতীক হতে পারে না।

তবে এনসিপিপন্থীদের যুক্তি ভিন্ন। তাদের দাবি, শাপলা জাতীয় প্রতীক নয়, বরং জাতীয় প্রতীকের একটি অংশ।

সংবিধানের প্রথম ভাগ, অনুচ্ছেদ ৪(৩)-এ বলা হয়েছে: ‘প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হইতেছে উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পরসংযুক্ত পত্র, তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটি করিয়া তারকা।’

আরও পড়ুন

এনসিপি নেতারা বলছেন, জাতীয় প্রতীকে বিভিন্ন প্রতীক এক করা হয়েছে। এককভাবে শাপলা জাতীয় প্রতীক নয়। যেমন ধানের শীষও জাতীয় প্রতীকের একটি উপাদান, কিন্তু বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ।

জাতীয় প্রতীকের একটি অংশ যদি কোনো দলের নির্বাচনী প্রতীক হতে পারে তাহলে অন্য একটি অংশ কেন হতে পারবে না, সে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

আর জাতীয় ফুলের নির্বাচনী প্রতীক হওয়া প্রসঙ্গে তাদের যুক্তি জাতীয় ফল কাঁঠাল যদি একটি দলের (জাতীয় পার্টি-একাংশ) নির্বাচনী প্রতীক হতে পারে তাহলে জাতীয় ফুল কেন হতে পারবে না?

এনসিপির প্রস্তাব ঘিরে এখন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংবিধান ও আইনের আলোকে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে যে, প্রস্তাবিত প্রতীকের মধ্যে কোনোটি জাতীয় প্রতীক হিসেবে সংরক্ষিত কি না এবং তার নির্বাচনযোগ্যতা কতটুকু রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এখানে কেবল প্রতীকের সংবিধানিক অবস্থান নয়, রাজনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচনায় রাখা জরুরি। কারণ প্রতীক শুধু চিহ্ন নয়, তা একটি দলের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীকী প্রকাশও।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা হওয়ায় পুলিশের মনোগ্রাম থেকে নৌকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad