কোনো সামরিক জোট বা প্রতিরক্ষা ব্লকে যোগ না দিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থরক্ষা করার নীতি গ্রহণ করেছে নতুন বিএনপি সরকার। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একে বলা হচ্ছে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’। এই নীতির মূল কথাই হলো—সবার সাথে বন্ধুত্ব রেখে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন বিদেশ সফর সরকারের এই মনোভাবকেই স্পষ্ট করেছে। দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেনে তুলতে তিনি এমন কিছু ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা চেয়েছেন, যা কোনো কোনো উন্নয়ন সহযোগীর কাছে কিছুটা সংবেদনশীল বা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার যেমন জরুরি, ঠিক তেমনি বিশ্বের বড় বড় পরাশক্তিগুলোর মধ্যে একটি নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখাও…
Author: শেখ শাহারিয়ার জামান
বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন। বিশ্ব রাজনীতির জটিল সমীকরণ, নানা দেশের পারস্পরিক প্রতিযোগিতা আর জাতীয় স্বার্থের টানাপোড়েনের মধ্যে এটি তার জন্য এক বড় মঞ্চ। মালয়েশিয়া ও চীনে তার এই সফর থেকে পরিষ্কার বোঝা যাবে, বর্তমান নতুন সরকার বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে কিভাবে তুলে ধরতে চায়। এই সফরগুলোর দিকে দেশের ভেতরে ও বাইরে সবাই বেশ আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এটি একটি বড় পরীক্ষা। গত দুই দশকে অনেক প্রধান উন্নয়ন সহযোগী দেশের সঙ্গেই দলটির যোগাযোগ কিছুটা কম ছিল। তাই সেসব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আবার নতুন…
গত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো পরপর দুটি দেশ সফর করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এশিয়ায় বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দুটি সহযোগী দেশ মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে তিনি এই সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রী ২১ জুন দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়া যাবেন। এরপর তিনি চার দিনের সফরে চীনে পৌঁছাবেন। চীন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক। এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন শি জিনপিং।…
বাংলাদেশের প্রতি ভারতের বক্তব্য এবং কূটনৈতিক বার্তার সঙ্গে তাদের বাস্তব আচরণের প্রায়শই অমিল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ঢাকা অনেকেই নয়াদিল্লির মনোভাবকে বন্ধুভাবাপন্ন নয় বলে মনে করছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। ভারতীয় কর্মকর্তারা বারবার উল্লেখ করেছেন, নয়াদিল্লি বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করবে। গত বছরের ৬ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দলকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছিলেন, “ভারত বাংলাদেশে যত দ্রুত সম্ভব একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে। নির্বাচনে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত যেকোনো সরকারের সঙ্গে ভারত কাজ করতে প্রস্তুত।”…
নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের হয়রানির ঘটনাকে ভারতের পক্ষ থেকে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংকেত হিসেবে দেখছেন কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে এই সংকেতের অর্থ দাঁড়ায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের টানাপোড়েন বজায় থাকতে পারে। এ ঘটনা ঢাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কূটনৈতিক মাধ্যমে নয়াদিল্লির কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ডা. জাহেদের দিল্লি পৌঁছানোর ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় আগে, গত শুক্রবার ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে তার এই সফরের বিষয়ে অবহিত করেছিল। উপদেষ্টাকে স্বাগত জানাতে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। আগাম তথ্য এবং কূটনৈতিক প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে প্রবেশাধিকার…
একটি দেশের শুল্ক কাঠামো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধরন নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এটি প্রধান অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। জাতীয় বাজেটের মাধ্যমে ঘোষিত শুল্ক ও করসহ বিভিন্ন রাজস্ব সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো কেবল অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনেই নয়, বরং বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির উদ্দেশ্যগুলো এগিয়ে নিতেও ব্যবহৃত হয়। এই পটভূমিতে, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বৃহস্পতিবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের প্রথম জাতীয় বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ও সাবেক কূটনীতিকদের মতে, এবারের বেশ কিছু রাজস্ব পদক্ষেপের প্রভাব কেবল বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হতে পারে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের…
নয়াদিল্লি আবারও অবৈধভাবে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ বা জোরপূর্বক মানুষ ঠেলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নাগরিকত্ব যাচাই বা আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ছাড়াই সীমান্ত দিয়ে নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে মানুষকে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধ্য করছে। রাজনৈতিক ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এই কৌশলটি ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মতো, যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন বিএনপি সরকারকে কোণঠাসা করার জন্য নয়াদিল্লির চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এই ইস্যুর পুনরুত্থান করা হয়েছে। অতীতের রেকর্ড উল্লেখ করে তারা বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের পুশইন অপারেশন দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওঠানামাকেই প্রতিফলিত করেছে। ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক যখন খারাপ হয় তখন এটি বাড়ে, আর দুই সরকারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলে এটি কমে যায়।…
গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ হতে যাচ্ছে। আগামী রোববার তিন দিনের সরকারি সফরে মস্কো যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে কূটনৈতিক মহল। তারা বলছেন, বিশ্বের প্রধান প্রধান শক্তির সাথে সম্পর্ক জোরদার করে ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার যে চেষ্টা ঢাকা করছে, এটি তারই একটি বড় অংশ। গত কয়েক মাসে নতুন সরকার ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেশ জোরদার করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মস্কো সফর সেই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নেবে এবং সব প্রধান অংশীদারের সাথে একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে…
আগামী ২৩ থেকে ২৬ জুন চার দিনের দ্বিপাক্ষিক সফরে বেইজিং যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো প্রধান বৈশ্বিক পরাশক্তির সঙ্গে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর হতে যাচ্ছে। চীন সফরের আগে আগামী ২১ জুন দুই দিনের সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তার প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়া থেকেই তিনি সরাসরি চীনে যাবেন, নাকি প্রথমে ঢাকায় ফিরে তারপর বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন—সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দেশে ফেরার পর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই চীন সফরে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার…
এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি নির্বাচিত হলে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে এক বছরের জন্য ছুটি নেবেন। গত ১৩ মে জাতিসংঘে আয়োজিত এক অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সংলাপে অ্যান্ডোরার এক প্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন। অ্যান্ডোরার প্রতিনিধি জানতে চেয়েছিলেন, সাধারণ পরিষদের পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হলে তাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে কি না। জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তার প্রধানমন্ত্রী এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে পূর্ণকালীন দায়িত্ব হিসেবে এই পদটি গ্রহণের জন্য তাকে এক বছরের রেহাই দেওয়া হবে। তিনি…

