স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সামরিক বাহিনী আরাকান আর্মির (এএ) কাছ থেকে এলাকা পুনরুদ্ধার করার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। যার ফলে রাতারাতি প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ সৈন্য, ট্যাঙ্ক এবং বিমান নিয়ে এসে যুদ্ধক্ষেত্রের শক্তি বাড়ানো হয়েছে।
Author: অনিক রহমান
মিয়ানমারের সীমান্ত অঞ্চলে চলমান সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অস্ত্র, মাদক ও জনবল সংগ্রহের নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করায় বাংলাদেশে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। কারণ দেশটি এখন একটি নিয়ন্ত্রিত সাধারণ নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। শান ও রাখাইন রাজ্যের চিরচেনা যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে সংঘাত। এর ফলে অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ—এই তিন দেশের সংযোগস্থলের কৌশলগত সীমান্ত অঞ্চল। আঞ্চলিক গোয়েন্দা তথ্য বলছে, একটি বড় অস্ত্রের চালান ভারতের মিজোরাম হয়ে মিয়ানমারের চিন রাজ্যে ঢোকার কথা রয়েছে। এরপর এটি আরাকান আর্মির প্যালেটওয়া অথবা লাইজা…
গত বছর যখন মিয়ানমারের বিদ্রোহীরা কিয়াউকমের পাহাড়ি শহরটির দখল নিয়েছিল, তখন মনে হচ্ছিল শেষ পর্যন্ত সামরিক জান্তার হাত থেকে ক্ষমতা বুঝি সরেই যাচ্ছে। চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্ত সংযোগকারী ঐতিহাসিক বার্মা রোডটি এই শহরের পাশেই অবস্থিত। ফলে এর গুরুত্বও বেশি। শহরটি দখলের পর তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) এই বিজয় নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিতও ছিল। বছরের পর বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের মধ্যে এই জয় তাদের রীতিমতো চাঙ্গা করে তুলেছি। কিন্তু এই মাসে জান্তা মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে কিয়াউকমে পুনরুদ্ধার করে নেয় । দৈনিক বিমান হামলা চালিয়ে শহরের বড় অংশ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয় তারা। সেই সঙ্গে কাছের শহর হিসপাও পুনরুদ্ধার করে। আর…
বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তের পাহাড়জুড়ে মেঘের গর্জন। তবে এই শব্দ বৃষ্টির নয় বরং বন্দুকের গুলির। যা ভেসে আসছে নাফ নদীর ওপার থেকে। ক্ষীণ কিন্তু ছন্দবদ্ধ বিস্ফোরণ। আর এই শব্দ সঙ্গে নিয়ে আসছে একটি যুদ্ধের প্রতিধ্বনি, যা ক্রমেই বাংলাদেশের কাছে এগিয়ে আসছে। নাইক্ষ্যংছড়ির ধানক্ষেত এবং তুমব্রুর কাদামাথা তীরের গ্রামবাসীরা এখন সংঘর্ষের শব্দের মধ্যেই ঘুমাতে যায়। শব্দ বাড়লেই জেলেরা তড়িঘড়ি করে তাদের নৌকা পাড়ে ভিড়িয়ে রাখে। আর বন্দুকের গুলির মতোই বিরামহীনভাবে দুই পক্ষের ছড়ানো গুজব ভেসে বেড়ায় সেখানকার বাতাসে। বাংলাদেশের কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলাকে মিয়ানমারের রাখাইন বা আরাকান থেকে বিভক্তকারী সীমান্তটি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠেছে। দুটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী—আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি…
মিয়ানমারের উত্তরের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে ভয়াবহ যুদ্ধের পেছনে রয়েছে মহামূল্যবান ‘জেড স্টোন’। বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান জেড খনিগুলোর অবস্থান দেশটির কাচিন রাজ্যে। এমনকি কাচিনের হপাকান্তকে জেড স্টোনের রাজধানী বলা হয়। গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারে গত কয়েকবছর ধরেই বিভিন্ন পাহারে ছড়িয়ে থাকা এসব জেড খনির দখলে আছে কাচিন স্বাধীনতা বাহিনী (কেআইএ)। এরই মধ্যে এসব খনির দখল নিতে স্থল ও আকাশপথে কেআইএ’র সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছে দেশটির সামরিক জান্তারা। জান্তা সরকারের ৩৩ লাইট ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের সেনারা, মিন জিন থান্তের ওয়ারাজুপ মিলিশিয়ার সহায়তায় মাওমাওবওয়ান, লেমাউনকন পাহাড় ও সাইনথ্যাং গ্রামের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এরইমধ্যে এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে কাচিনের কাছাকাছি পাহাড়ি অঞ্চলে ঢুকে পড়েছে জান্তা…
তখন ২০২৪ শুরু হয়েছে কেবল। ঠিক সেই সময় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য জুড়ে শুরু হলো আরাকান আর্মির তাণ্ডব। গ্রামের পর গ্রাম ধ্বংস আর দখল করে তারা এগিয়ে যেতে শুরু করল। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সশস্ত্র এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যরা মংডু এবং বুথিডংয়ে বড় অংশের দখল নিল। মে মাসের ২ তারিখ নাগাদ তারা পৌঁছে গেল হ্তাক শউক খান বা হৈয়া ছড়ি গ্রামে। যেটির অবস্থান বাংলাদেশের টেকনাফ জেটি থেকে আনুমানিক ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে। গ্রামটিতে সেসময় ছিল হাজার মানুষের বসতি। যার মধ্যে ছিল অন্য গ্রাম থেকে নির্বাসিত হয়ে আসা রোহিঙ্গারাও। সেই গ্রামে ঢুকে রীতিমতো হত্যাযজ্ঞ চালায় সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। পুড়িয়ে দেওয়া হয় স্থানীয়দের বাড়িঘর। হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে…
কোটি দুয়েক মানুষের ব্যস্ত মেগাসিটি ঢাকার পথচারীর ফুটপাতের অনেকটা আগেই কেড়ে নিয়েছেন হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। আর এখন ফুটপাতে নিত্য উৎপাতের নাম বেপরোয়া মোটরসাইকেল। ফুটপাতে নিরাপদে হাঁটাচলার বাকি পথটুকুতেও দিনরাত বাগড়া দিচ্ছেন বাইকাররা। যানজট এড়াতে রাস্তার পরিবর্তে ফুটপাতকেই চলাচলের পথ করে নিয়েছেন অনেক বাইক চালক। আবার এমনও দেখা গেছে, ট্রাফিক আইন ভেঙে ফুটপাতে দখলে উৎসাহ দিচ্ছেন ‘রাইড শেয়ারিং মোটো অ্যাপের’ আরোহীরাও। নগরীর ধানমন্ডি, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, মিরপুর রোড, এলিফ্যান্ট রোড, ফার্মগেট ও মতিঝিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে দিন দিন বেড়েই চলেছে এই চিত্র। এতে দুর্ঘটনা ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফুটপাতে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মোটরসাইকেলের যন্ত্রণায় অনেক ফুটপাত…
নব্বইয়ের দশকে ঢাকার ধানমন্ডির একটি সাধারণ সরকারি কলোনিতে আমার বেড়ে ওঠা। যেখানে সন্ধ্যা হলেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়া ছিল রীতিমতো নিয়ম। আমি আর আমার বোনেরা অধীর হয়ে সেই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করতাম। কারণ বিদ্যুৎ গেলেই, সাবেক স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কর্মী ও মুক্তিযোদ্ধা আমাদের বাবা অন্ধকারে বসে একাত্তরের গল্প শোনাতেন-যে গল্পগুলো নিছক বীরত্বগাথা নয়, বরং কখনও কখনও যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতার নির্জন স্বীকারোক্তি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতার মুখোমুখি প্রতিরোধ- এইসবের প্রতি এক অদ্ভুত আকর্ষণ তৈরি হতে থাকে আমার। একজন ফটোসাংবাদিক হিসেবে আন্দোলন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঘটনাগুলোকে ধারণ করাই হয়ে ওঠে আমার পেশা, আর তাতে আমি খুঁজে পাই একধরনের…
গাজীপুর সাফারি পার্কে প্রকৃতির সান্নিধ্যে ছুটি কাটানোর আনন্দ মুহূর্তেই আতঙ্কে পরিণত হয় বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর। ঢাকা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার অদূরের পার্কটি পারিবারিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বন বিভাগ সেখানে ‘আফ্রিকান সাফারি’ অভিজ্ঞতার আশ্বাস দিলেও, সরেজমিন অভিজ্ঞতায় ফাঁস হয়েছে এর ব্যবস্থাপনা ব্যর্থতা। প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা হলেও দর্শনার্থীদের বাঘ-সিংহের আবাসস্থলের ভেতর দিয়ে বাসে ভ্রমণের জন্য গুনতে হয় মাথাপিছু দেড়শ টাকা। স্বপরিবারে শুক্রবার ছুটির দিনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের লক্কর-ঝক্কর দোতলা বাসে করে সাফারি পার্ক ঘুরিয়ে দেখানোর সময় দেখা দেয় বিপত্তি। হঠাৎ বাসটি বিকল হয়ে পড়লে এর বিপুল সংখ্যক যাত্রী বাঘ-সিংহের আস্তানার ভেতর আটকা পড়েন। একাধিক দর্শনার্থী জানান, বাস হঠাৎ কালো ধোঁয়া উড়িয়ে মাঝপথে…
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় ভোর রাতে যখন বানের পানি প্রবেশ করে, তখন অধিকাংশ গ্রামবাসী ছিলেন গভীর ঘুমে। বাঁধের ফাটল ভেঙে পানি প্রবল স্রোতের শব্দে ঘুম ছুটে যায় সকলের। নিমিষেই পানির নিচে তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি, ক্ষেত-খামার ও শত শত স্বপ্ন সুখ। সেই থেকে গত কয়েকদিনে ফুলগাজীর ৮৫ গ্রামের বাসিন্দার চোখে ঘুম নেই। ‘আমরা কিছুই বাঁচাতে পারিনি,’ শুক্রবার সকালে টাইমস অব বাংলাদেশকে বললেন ৩৮ বছর বয়সী মান্নান মিয়া। ‘পানি উঠছিল বুক পর্যন্ত, বুঝতেই পারলাম না কী হইতেছে’, বলেন তিনি। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিনে ফুলগাজীতে প্লাবিত হয়েছে অন্তত ৮৫টি গ্রাম। পাশাপাশি ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদরে আরও হাজার হাজার মানুষ বন্যা আক্রান্ত।…

