তখন ২০২৪ শুরু হয়েছে কেবল। ঠিক সেই সময় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য জুড়ে শুরু হলো আরাকান আর্মির তাণ্ডব। গ্রামের পর গ্রাম ধ্বংস আর দখল করে তারা এগিয়ে যেতে শুরু করল। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সশস্ত্র এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যরা মংডু এবং বুথিডংয়ে বড় অংশের দখল নিল। মে মাসের ২ তারিখ নাগাদ তারা পৌঁছে গেল হ্তাক শউক খান বা হৈয়া ছড়ি গ্রামে। যেটির অবস্থান বাংলাদেশের টেকনাফ জেটি থেকে আনুমানিক ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে।
গ্রামটিতে সেসময় ছিল হাজার মানুষের বসতি। যার মধ্যে ছিল অন্য গ্রাম থেকে নির্বাসিত হয়ে আসা রোহিঙ্গারাও। সেই গ্রামে ঢুকে রীতিমতো হত্যাযজ্ঞ চালায় সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। পুড়িয়ে দেওয়া হয় স্থানীয়দের বাড়িঘর। হত্যাযজ্ঞ থেকে বেঁচে যাওয়া একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, রাখাইনের শান্ত জঙ্গলে সেদিন যেন আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছিল।
বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে একজন আরোফা বেগম (৩৫)। স্মৃতিচারণ করে তিনি বললেন, চারদিকে এত রক্ত ছিল যে তিনি ভেবেছিলেন রক্তের সাগরে ডুবেই বুঝি মারা যাচ্ছেন। পাশেই পড়ে ছিল তার স্বামীর রক্তাক্ত লাশ, আঘাতে যার মাথার খুলি ফেটে গিয়েছিল। আরোফার এক মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল গুলির আঘাতে, অন্যজনকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যার চিৎকার এখনো কানে বাজে তার।
এই নারীর ছয়টি ছেলেকে এক এক করে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাদের ছোট ছোট দেহগুলো মাটিতে পড়ে ছিল ময়লা-আবর্জনার মধ্যে।
আরোফার সঙ্গে কথা হয় গত আগস্টে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের অস্থায়ী ঘরের সামনে বসে টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের রক্তে ডুবে ছিলাম। আমি এমনভাবে শুয়ে ছিলাম যেন মারা গেছি। আমার পরিবারের সবাই তখন মৃত, আমার কাছে বাঁচার একমাত্র উপায় ছিল মৃতের ভান ধরে পড়ে থাকা।’

আরোফা বলেন, ‘তারা আমাদের তিনটি দলে ভাগ করেছিল। যার মধ্যে তরুণদের প্রথমে হত্যা করা হয়। এরপর তারা আমাদের দিকে গুলি চালায়।’
সেসময় বামহাতে চারটি গুলি এসে আঘাত করে আরোফাকে। প্রথমে তিনি শুয়ে ছিলেন অসংখ্য লাশের মধ্যে। এরপর ছয়দিন লুকিয়ে ছিলেন মাটি-কাদার গর্তে, যেন সৈনিকরা তার শ্বাস-প্রশ্বাস শুনতে না পায়, কেউ টের পেয়ে না যায় যে তিনি বেঁচে আছেন!
লাশের মতো পড়ে থাকা সেই রাতে আরোফা আরও ভয়ানক সব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। তিনি দেখেছেন কীভাবে বন্দুকধারীরা ফিরে এসে লাশের শরীর থেকে গহনা খুলে নিয়ে গেছে, কীভাবে অর্ধমৃত বা আহত শিশুদের তুলে পানিতে ফেলে দিয়েছে। দেখেছেন কীভাবে লাশের স্তুপে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই হত্যাযজ্ঞের সময়, হ্তান শউক খান গ্রামের কিছু মানুষ পাশের জঙ্গলে পালিয়ে বেঁচেছিলেন। তাদেরই একজন শামসুল। এখন তিনি বাস করেন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। গত আগস্টেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন।
জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে থেকে আশপাশের পুড়তে থাকা গ্রামের আগুনের উচ্চতা এবং পোড়া গন্ধ শুঁকে তিনি আরাকান আর্মির অগ্রগতি বোঝার চেষ্টা করতেন। তিনি জানান, আরাকান আর্মি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তাদের ব্যাটালিয়নে ফিরে যায়। তারপরই গ্রামে ফেরেন শামসুল। যে গ্রামে পৌঁছার আগেই দুর্গন্ধ এসে পৌঁছে তার নাকে।

শামসুল বলেন, ‘যেদিকে তাকাই সেদিকেই শুধু লাশ। এখানে দুটি, ওখানে তিনটি। পুকুর, শৌচাগার, গোসলখানা; সব জায়গায় শুধু লাশ আর লাশ। অনেক লাশ স্তুপ করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মাটি ছিল সেই পোড়া ছাইয়ে ঢাকা। কখনো কখনো ধানক্ষেতে ভেসে আসত মানুষের খুলি।’
‘আরাকান আর্মির সদস্যরা জীবিতদের প্রশ্ন করত যে, তারা কেউ গণকবর দেখেছেন কিনা। অর্থাৎ তারা নিশ্চিত হতে চাইত যে এই হত্যাযজ্ঞের কোনো প্রত্যক্ষদর্শী রয়ে যাচ্ছে কিনা’, যোগ করেন শামসুল।
তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের হুমকি দিত, জোর করত যেন আমরা এসব ঘটনার জন্য মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে দোষারোপ করি।’
সেসব কথা স্মরণ করে বাংলাদেশের মাটিতে বসে এখন শামসুল অবাক হয়ে যান। নিজের বেঁচে থাকাটাই তার কাছে অবিশ্বাস্য লাগে।
এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে পালানোর সময় আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছিলেন আরোফা। সেসময় তাকে চিকিৎসা দেওয়ার বিনিময়ে একটি বিবৃতি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। যে বিবৃতিতে তাকে বলতে হয়েছিল, তার গ্রামে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা।
গ্রামে থাকতে গণকবরের পাশে হাঁটতেন শামসুল। দেখতেন সেখানের মাটির ফাটল, লাশ পোড়ানোর চিহ্নও। পাশাপাশি কিছু ছবি ও ভিডিও করতেন তিনি।
শামসুল বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কী কী হয়েছে তা জানে না বিশ্বের মানুষ। সেখানে কেউ আসেনি, কোনো সাংবাদিক ছিল না। তাই আমি নিজের ফোনেই ছবি তোলার ও ভিডিও ধারণের সিদ্ধান্ত নিই। নাহলে কেউ তো আমাদের বিশ্বাস করবে না।’

টাইমসের অনুসন্ধানী দল শামসুলের কাছ থেকে সেসব ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে। এরপর সেসব নিয়ে যায় আরোফার কাছে। উদ্দেশ্য ছিল, শামসুলের ভিডিও এবং ছবিতে যেসব স্থানের ছবি দেখা গেছে সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা।
ভিডিও ফুটেজ চলতে শুরু করতেই আরোফা কান্নায় ভেঙে পড়েন। চিৎকার করে তিনি বলতে থাকেন, ‘এখানেই তারা আমার পরিবারকে হত্যা করেছে, আমার ছোট, ছোট ফুলগুলোকে শেষ করে দিয়েছে।’
বেঁচে ফেরা রোহিঙ্গাদের এসব দেওয়া সাক্ষ্য একটি করুণ চিত্র তুলে ধরে। যেখানে মালার মতো গাঁথা থাকে নির্বিচার হত্যা, যৌন সহিংসতা, লুটপাট, গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া এবং প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য লাশ পুড়িয়ে ফেলার মতো ঘটনা।
এসব বিষয়ে জানতে আরাকান আর্মির সঙ্গে বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছে টাইমস অব বাংলাদেশ। কিন্তু তাদের কোনো সাড়া মেলেনি।
টাইমসের অনুসন্ধানে যেসব তথ্য উঠে এসেছে তার সঙ্গে মিল রয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং ফোর্টিফাই রাইটসের চলমান তদন্তেরও।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক গবেষক শায়না বশনার বলেন, ‘সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুরতা সুপরিচিত। কিন্তু আরাকান আর্মি এখন রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে তাদের নিজস্ব দমন ব্যবস্থা চালু করছে। দেশের কিছু অংশের মানুষের ওপর এমন দমনপীড়ন চালিয়ে তারা রাষ্ট্রকে স্বাধীন করার দাবি করতে পারে না।’
‘আরাকান আর্মি এবং এর রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লিগ অব আরাকানকে অবশ্যই এসব বৈষম্যমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে পূর্বপ্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ফোর্টিফাই রাইটসের পরিচালক জন কুইনলি টাইমসকে বলেন, ‘হ্তান শউক খান গ্রামে হত্যাকাণ্ডের জন্য আরাকান আর্মির সৈন্যরাই দায়ী।’
তিনি মনে করেন, আরাকান আর্মিকে অবশ্যই তাদের সদস্যদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং আন্তর্জাতিক তদন্তকারী ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের ঘটনাস্থলগুলোয় প্রবেশাধিকার দিতে হবে।
এক বছর ধরে রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামে লুকিয়ে থাকার পর ২৫ দিনের চেষ্টায় বাংলাদেশে পৌঁছান আরোফা। তিনি আর তার একমাত্র জীবিত মেয়ে এই দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার জন্য ঝর্ণা থেকে পানি পান করেছেন, গাছের পাতা চিবিয়েছেন, অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে সাহায্য ভিক্ষা করেছেন। মানবপাচারকারীরা টাকা দাবি করলে গ্রামবাসীরা তাদের রক্ষা করতে অর্থ পরিশোধ করেছিল বলে জানান আরোফা।
তিনি বলেন, ‘তাদের সহায়তা ছাড়া আমরা মারা যেতাম।’
গত ১৩ মার্চ যখন বান্দরবানের আলিকাদামে পৌঁছেন আরোফা, তখন তার কাছে শরীরভরা ক্ষত আর মাথায় ঋণের বোঝা ছাড়া কিছুই ছিল না। তিনি প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি টাকা ধার করে সীমান্ত পারাপারকারীদের হাতে তুলে দেন। যে ঋণ এখনো পরিশোধ করতে পারেননি। এখন তিনি উখিয়ার এমন একটি শরণার্থী শিবিরে বাস করছেন, যেখানে নিয়মিত খাবার বা রান্নার সামগ্রী জোগাড়ের সামর্থ্যও তার নেই।
গত ১৪ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা পরবর্তী বছরের ঈদ রাখাইনে তাদের নিজেদের বাড়িতেই উদযাপন করতে পারবেন।
তবে এরপরেও থামেনি রোহিঙ্গাদের ঢল। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৫৩ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

হ্তান শউক খান গ্রামে হত্যাযজ্ঞের পর থেকে দেড় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে পালিয়ে ঢুকেছেন বলে ইউএনএইচসিআরের তথ্য বলছে। তবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী তহবিল প্রকল্প স্থগিত করায় বিপদে পড়েছেন বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এই রোহিঙ্গারা। যাদের মাসিক ভাতা কমে গেছে, বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
গত ১৪ জুলাই পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, রাখাইনে চার লাখেরও বেশি মানুষ এখনও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। যারাও যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে পালানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরগুলো মানুষে পরিপূর্ণ। মংডু এবং বুথিডং থেকে আসা ১০ হাজারের বেশি মানুষ এখনো উখিয়ার শরণার্থী শিবিরের বাইরে বাঁশের ঘরে থাকার জন্য তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা গুনছেন।
বাংলাদেশে কর্মরত ইউএনএইচসিআর টাইমস অব বাংলাদেশকে জানিয়েছে, সবকিছু ছেড়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এখন তীব্র তহবিল সংকটে পড়েছে। যা তাদের খাদ্য, বাসস্থান ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকারকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। জরুরি সহায়তা পাওয়া না গেলে পরিবারগুলো ক্ষুধার্ত থাকবে, অসুস্থরা চিকিৎসা না পেয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে এবং বর্ষা তীব্র হলে তারা আশ্রয়হারাও হতে পারে।
তাদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্য অপরিহার্য বলেও মনে করে ইউএনএইচসিআর।

আরোফা আর শামসুলের এসব বর্ণনা খুবই ভীতিকর। হয়ত এসব ঘটনার কখনো তদন্ত হবে না, হয়ত ন্যূনতম বিচারও হবে না। কারণ দেশ, মানচিত্র আর নাগরিকত্ব হারানো নির্বাসিত রোহিঙ্গাদের ক্ষমতা খুবই কম। তাই নিজেদের জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে কখনোই হয়ত সোচ্চার হতে পারবেন না তারা।
নিউইয়র্কে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল রিফিউজি অ্যাসাইলাম সিস্টেম: হোয়াট ওয়েন্ট রঙ অ্যান্ড হাউ টু ফিক্স ইট’ শীর্ষক আলোচনার আয়োজন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ। সেখানে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা বিষয়ক প্রতিনিধি খলিলুর রহমান আরাকান আর্মির কাছ থেকে পাওয়া কিছু ছবির উদাহরণ দেন। যেসব ছবিতে আরাকান আর্মির সৈন্যদের সঙ্গে রোহিঙ্গা গ্রামবাসীকে দেখা যায়। তার দাবি, বর্তমানে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত রাখাইন নিয়ন্ত্রণকারী দলটি রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করছে।
তিনি প্যানেলকে বলেন, ‘এটি বিশ্বের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার বিরল সুযোগ। তাদের (রোহিঙ্গা) বাড়ি ফিরে যেতে সাহায্য করুন। বাংলাদেশে তাদের পেছনে যা খরচ করা হচ্ছে তার একটি ছোট অংশ মিয়ানমারে ব্যয় করুন, যাতে তারা তাদের জীবন নতুন করে শুরু করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ গড়ে নিতে পারে।’
কিন্তু রোহিঙ্গাদের ফেরানোর বিষয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে।
শায়না বশনার বলেন, ‘কোনও সরকারেরই আগাম বা জোর করে প্রত্যাবাসনের চেষ্টা করা উচিত নয়। এটি পরবর্তী ধ্বংসাত্মক নির্বাসনের পথ তৈরি করতে পারে।’
তার মতে, বরং আরাকান আর্মির দমন-নির্যাতন বন্ধ এবং এই সংকটের পেছনে যে অপরাধ জড়িত তার জন্য দায়বদ্ধতার পরিবেশ তৈরির দাবি তোলা উচিত।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মিয়ানমার বিষয়ক গবেষক জো ফ্রিম্যান এর সঙ্গে আরও কিছু বিষয় যোগ করেন। তিনি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের বিদ্যমান পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরার জন্য মোটেও সঠিক নয়।’
এই প্রেক্ষাপটে, রোহিঙ্গা মুসলিম এবং মিয়ানমারের অন্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে নিউইয়র্কে একটি উচ্চ-পর্যায়ের জাতিসংঘ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অন্যদিকে তীব্র গরমে কক্সবাজারে বাঁশের ঘরের মধ্যে বসে থাকা নারী আরোফা তার সন্তানদের শেষ মুহূর্তগুলো এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারছেন না।
আরোফা বলেন, ‘আমি নিজের হাতে তাদের স্পর্শ করেছি। আমি দেখেছি আমার ছেলে নড়ে উঠতেই তাকে আবার গুলি করা হলো। আমি দেখেছি আমার মেয়েকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে।’
ওড়নায় চোখ মুছতে মুছতে ছয় ছেলের এই মা বলেন, ‘অন্তত একটা ছেলেও যদি বেঁচে থাকত, তাহলেও মনে হতো আমার কাছে সব আছে। কিন্তু আমি আসলে সবকিছু হারিয়েছি। আমি আমার গল্প বলছি যেন পৃথিবী এসব সত্য জানতে পারে — যাতে পৃথিবী রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার এনে দিতে পারে।’


