বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রানি মুখার্জি সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যিনি কখনো ট্রেন্ডের পেছনে ছোটেননি; বরং নিজের কাজ দিয়েই ট্রেন্ড তৈরি করেছেন। ১৯৯৬ সালে ক্যারিয়ার শুরু করা এই অভিনেত্রী এ বছর বলিউডে তিন দশক পূর্ণ করছেন। তার এই দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় যাত্রা ঘিরে পুরো ইন্ডাস্ট্রিতেই চলছে উদযাপন। রানির বড়পর্দায় অভিষেক হয় ১৯৯৬ সালে, কলকাতার বাংলা ছবি বিয়ের ফুল–এর মাধ্যমে। একই বছরের ১৮ অক্টোবর মুক্তি পায় তার প্রথম হিন্দি ছবি রাজা কি আয়েগি বারাত। কাকতালীয়ভাবে, দুটি ছবিই মুক্তি পায় একই দিনে। যদিও হিন্দি ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে সাফল্য পায়নি, তবে রানির অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ে। তার প্রকৃত ব্রেকথ্রু আসে ১৯৯৮ সালে কুছ…
Author: আহমেদ জামান শিমুল
নবাব সিরাজউদ্দৌলা— বাংলা তথা ভারতবর্ষের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক নাম। তাকে নিয়ে খান আতাউর রহমান নির্মাণ করলেন ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’। ১৯৬৭ সালের ১২ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়া ছবিটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম ক্লাসিক। চলচ্চিত্র গবেষক মীর শামসুল আলম বাবু জানান, ছবিটি তখন বাংলা ও উর্দু দুই ভার্সনে নির্মিত হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাপারটি কিন্তু বাংলায় শুটিং করে উর্দুতে ডাবিং— এমন ছিল না। আগে বাংলায় শট নিয়ে, পরে উর্দুতে শট নিতে খান আতা। তৎকালীন পাকিস্তানের দুই অংশেই ছবিটি সুপারহিট ব্যবসা করেছিল। ষাটের দশকে পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের আমলে দাঁড়িয়ে একজন বাঙালি শাসকের ইংরেজবিরোধী লড়াই নিয়ে ছবি বানানো ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক ঝুঁকির বিষয়। তবু খান…
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে জহির রায়হান এমন এক নাম, যিনি ক্যামেরাকে শুধু বিনোদনের যন্ত্র হিসেবে নয়, বরং সমাজ বিশ্লেষণের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তার নির্মিত ‘কাঁচের দেয়াল’ সেই দৃষ্টিভঙ্গিরই এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এটি শুধু একটি পারিবারিক বা রোমান্টিক ছবি নয়; বরং শহুরে মধ্যবিত্ত জীবনের মানসিক দ্বন্দ্ব, দাম্পত্য টানাপোড়েন ও নারীর নিঃসঙ্গতার এক সংবেদনশীল ভাষ্য। ‘কাঁচের দেয়াল’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন আধুনিক শিক্ষিত নারী ও তার সংসারকে ঘিরে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা থাকলেও পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব, সন্দেহ, সামাজিক চাপ ও ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্কের মাঝে এক অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করে—যে দেয়াল কাঁচের মতো স্বচ্ছ, কিন্তু ভাঙা কঠিন। ছবিটি দেখায়, একই…
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির তথ্য অনুযায়ী চলতি মাসে মাত্র একটি ছবি মুক্তির জন্য আবেদন করেছে— ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’। এটি ব্যতীত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত কোনো ছবিই মুক্তির ঘোষণা দেয়নি কিংবা সমিতির খাতায় নাম তালিকাভুক্ত করেনি। সমিতির কর্মকর্তা সমীন্দ্র টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, ‘বরিশাইল্লা পরী’ নামক একটি ছবি মুক্তির আবেদন করার কথা থাকলে তারা এখন আবেদন করবেন না বলে জানিয়েছেন আমাদের। সাধারণ আগের বছরগুলোতে দেখা যেত মুক্তির ৩-৪ আগে থেকেই অনেক ছবি তারিখ নিয়ে রাখতো। এবার কেউই আসছে না তারিখ নিতে। কেন এমন হচ্ছে? কী বলছেন ইন্ডাস্ট্রির কর্তাব্যক্তিরা? এর পিছনে কি নির্বাচনী প্রচারণার ব্যস্ততা নাকি অন্য কোনো কারণ কাজ…
বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাদের জীবন কেবল ব্যক্তিগত পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তারা হয়ে ওঠেন সময়ের ভাষ্যকার, সংগ্রামের দিশারি, একটি আদর্শের জীবন্ত প্রতীক। সত্যেন সেন তেমনই একজন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) তার ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯০৭ সালের ২৮ মার্চ মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামে জন্ম সত্যেন সেনের। জমিদার পরিবারে জন্ম হলেও তার মন পড়ে থাকত মাঠে-ঘাটে, খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে। ছোটবেলার ডাকনাম ছিল লস্কর। কৈশোরেই তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হন এবং যোগ দেন যুগান্তর দলে। এর ফলস্বরূপ ১৯৩১, ১৯৩২ ও ১৯৩৩—এই তিন বছরে একাধিকবার তাকে কারাবরণ করতে হয়। জেলখানার অন্ধকার কক্ষেই গড়ে ওঠে…
ঢালিউড, টেলিভিশন, মঞ্চ কিংবা ওটিটি— শিল্প-সংস্কৃতি প্রতি অঙ্গন একধরনের ক্রান্তিকাল পার করছে। এ সন্ধিক্ষণে যেমন রয়েছে আশার গল্প, তেমনি রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ। দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ২০২৫ সাল একদমই ভালো যায়নি। দুই ঈদে হাতেগোনা কয়েকটি ছবি ব্যতীত পুরো বছর প্রেক্ষাগৃহ একপ্রকার দর্শক ও ছবিবিহীন ছিল। তবে নতুন বছরে দর্শকদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বেশ কিছু সিনেমার। যেগুলো ঠিকঠাক নির্মাণ ও প্রচারণা করলে দেশের সিনে ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘সোলজার’, ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘আন্ধার’, ‘মালিক’, ‘দম’, ‘রইদ’, ‘রঙবাজার’, ‘ডেডোর গল্প’, ‘পিনিক’, ‘ট্রাইবুন্যাল’, ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’, ‘সিক্রেট’ ইত্যাদি। যদিও অধিকাংশ ছবি বলা হচ্ছে ঈদুল ফিতরের জন্য…
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া চলে গেছেন না ফেরার দেশে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর)। ১৯৯১ সালে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর আরও দুই মেয়াদে তিনি দেশ চালান। চলচ্চিত্র সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান বলেন, এরশাদ সরকারের আমলে বলতে গেলে রাজনৈতিক ছবি নির্মিত হয়নি। তখন দেশে ফোক ছবির বিকাশ ঘটেছে। বেগম জিয়া ক্ষমতা গ্রহণ করেই সংস্কৃতি অঙ্গনের বিকাশে বেশ উদার নীতি গ্রহণ করেন। বিশেষ করে চলচ্চিত্রাঙ্গনে তার এ নীতির কারণে প্রচুর রাজনৈতিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল। এসকল চলচ্চিত্রে যেভাবে দেশের মন্ত্রী, এমপিদের দুর্নীতি দেখানো হয়েছিল, তা সত্যিই বিস্ময়কর।’ ১৯৯১ সালে চাষি নজরুল ইসলাম নির্মিত ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’-তে চরাঞ্চলের…
করোনাকালীন দেশে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর বিকাশ ঘটে। ২০২০ সালের পর মোটামুটি ২০২৩ পর্যন্ত দেশের এ ইন্ডাস্ট্রি বেশ দ্রুতই বড় হয়। । কিন্তু গত দুই বছর ধরে ওটিটিতে চলছে মন্দাবস্থা। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ২০২০ এ যখন দেশে ওটিটির উত্থান ঘটে তখন দেশির চেয়ে বিদেশি ওটিটির দৌরাত্ম্য ছিল বেশি। এর মধ্যে ছিল ভারতীয় হইচই, জি ফাইভ, আড্ডাটাইমস, কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের নেটফিক্স। তবে আস্তে আস্তে এ স্থান দখল করে দেশীয় প্রতিষ্ঠান চরকি, বঙ্গবিডি, বিঞ্জ। এগুলো ছাড়াও বর্তমানে দেশীয় ওটিটির মধ্যে রয়েছে বায়োস্কোপ প্লাস, দীপ্ত প্লে, আইস্ক্রিন, টফি ইত্যাদি। সবচেয়ে বেশি কনটেন্ট মুক্তি দিয়েছে আইস্ক্রিন। তাদের অরিজিনাল ওয়েব সিরিজ ও ফিল্মের মধ্যে রয়েছে–অমীমাংসিত, নয়া…
কিছু সিনেমা সময়কে ছাপিয়ে যায়। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ‘ঘুড্ডি’ সেই ব্যতিক্রমী উদাহরণ। সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকীর পরিচালনায় সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮০ সালের ১৯ ডিসেম্বর। শুক্রবার পূর্ণ হচ্ছে তার ৪৫ বছর। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এলেও দর্শকের কাছে এই ছবির আবেদন কমেনি, বরং আরও দৃঢ় হয়েছে। আশির দশকের গোড়ায় বাণিজ্যিক বাংলা সিনেমা অতিরঞ্জন আর ফর্মুলা গল্পে থমকে ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ‘ঘুড্ডি’ ছিল এক ঝলক তাজা হাওয়া। সিনেমার শুরুতেই দেখা মেলে এক চঞ্চল, নাগরিক তরুণী ঘুড্ডি (সুবর্ণা মুস্তাফা) এবং বেকার যুবক আসাদের (রাইসুল ইসলাম আসাদ) পরিচয় দৃশ্যের। আর এই পরিচয়ের হাত ধরেই দেখা মেলে অন্যরকম এক ঢাকার। যেখানে প্রেম মানে শুধু গান নয়। বরং প্রেম…
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক অনন্য পুরোধা, দেশপ্রেমিক সুরকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আলতাফ মাহমুদ। ১৯৩৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর বরিশালের মুলাদী উপজেলার পাতাচর গ্রামে তার জন্ম। সময়ের পরতে পরতে তার সুর আজ আর কেবল সংগীত নয়, আমাদের জাতিসত্তারই অবিচ্ছেদ্য অংশ। আলতাফ মাহমুদ ছিলেন সেই বিরল মানুষদের একজন, যিনি বিশ্বাস করতেন—সংগীত শুধু বিনোদন নয়, এটি প্রতিরোধও হতে পারে। বাঙালির ইতিহাসে তার অবস্থান তাই একজন সুরকার হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি ছিলেন মুক্তির সংগ্রামে অবিচল এক যোদ্ধা। তার নাম উচ্চারিত হলেই কানে ভেসে আসে একুশের অমর গান— ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।’ আব্দুল গাফফার চৌধুরীর লেখা এই কবিতায় ১৯৫৪…

