করোনাকালীন দেশে ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর বিকাশ ঘটে। ২০২০ সালের পর মোটামুটি ২০২৩ পর্যন্ত দেশের এ ইন্ডাস্ট্রি বেশ দ্রুতই বড় হয়। । কিন্তু গত দুই বছর ধরে ওটিটিতে চলছে মন্দাবস্থা। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
২০২০ এ যখন দেশে ওটিটির উত্থান ঘটে তখন দেশির চেয়ে বিদেশি ওটিটির দৌরাত্ম্য ছিল বেশি। এর মধ্যে ছিল ভারতীয় হইচই, জি ফাইভ, আড্ডাটাইমস, কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের নেটফিক্স। তবে আস্তে আস্তে এ স্থান দখল করে দেশীয় প্রতিষ্ঠান চরকি, বঙ্গবিডি, বিঞ্জ। এগুলো ছাড়াও বর্তমানে দেশীয় ওটিটির মধ্যে রয়েছে বায়োস্কোপ প্লাস, দীপ্ত প্লে, আইস্ক্রিন, টফি ইত্যাদি।
সবচেয়ে বেশি কনটেন্ট মুক্তি দিয়েছে আইস্ক্রিন। তাদের অরিজিনাল ওয়েব সিরিজ ও ফিল্মের মধ্যে রয়েছে–অমীমাংসিত, নয়া নোট, আসবে কি ফিরে, কিস্তিমাত, পাপ কাহিনি, পার্টি, শোধ। অন্য সিরিজ ও ফিল্মের মধ্যে রয়েছে–আন্তরাত্মা, নীল চক্র, নকশী কাঁথার জমিন, জ্বিন-৩, সাত ভাই চম্পা আদি (পার্ট ২), আগুন্তক, ছায়া, আজব কারখানা, ঈশা খাঁ, জলরঙ, জলে জ্বলে তারা, নীল পদ্ম, দরদ, কুস্তীগির, ওমেন অফ নো রিলিজিয়ন, সে দিন ছিল শুক্রবার, ৮৪০, ব্রোকেন লাইভস, উই ক্রস দি সেইম রোড।
এ ছাড়া তারা লাক্স সুপার স্টার, ১২তম ব্যান্ড ফেস্ট, চ্য্যানেল আইয়ের বিভিন্ন ড্র্যামা সিরিজ, এশিয়া কাপ, এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার, অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপ, ট্রাই নেশন ওমেনস ফুটবল এবং এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারস ফুটবল দেখিয়েছে তারা।
চরকি মুক্তি দিয়েছে ২৭টি কনটেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে–ফেউ, গুলমোহর, বরবাদ, দাগি, জংলি, চক্কর ৩০২, উৎসব, প্রিয় মালতী, তাণ্ডব, দেয়ালের দেশ, জয়া আর শারমিন, ইনসাফ, ঘুমপরী, লিটল মিস ক্যাওস, প্রিয় সত্যজিৎ, একটি সূতার জবানবন্দি, আমলনামা, তোমার জন্য মন, ডিমলাইট।
হইচই বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরুর পর এ বছরই সবচেয়ে কম কনটেন্ট মুক্তি দিয়েছে। অরিজিনাল কনটেন্ট মাত্র তিনটি–‘জিম্মি’, ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’ ও ‘আকা’। এ ছাড়া ‘তাণ্ডব’ ও ‘সাবা’ চলচ্চিত্র দুটিও তাদের এখানে প্রদর্শিত হয়েছে।
আগের বছরগুলোতে বিঞ্চ, টফি উল্লেখযোগ্য কাজ নিয়ে আসলেও এ বছর প্রতিষ্ঠান দুটি হাতেগোনা কয়েকটি কনটেন্ট এনেছে। গেল ২৮ জুলাই দেশি-বিদেশি ৯টি ওটিটির কনটেন্ট এক প্ল্যাটফর্মে এনে যাত্রা শুরু করে ‘বায়োস্কোপ প্লাস’। দেশের প্রথম দিককার ওটিটি বায়োস্কোপ নাম পরিবর্তন করে এ নবযাত্রার পরে উল্লেখযোগ্য কোনো কনটেন্ট প্রকাশ করেনি। এ ছাড়া দীপ্ত প্লে এনেছে ‘তাণ্ডব’, গুড ডক্টর, এন্ডলেস লাভ, রাজপ্রসাদের লুজেন, পডকাস্ট শো ‘মাই স্টোরি’, বিনোদন এই সময়, চুলার পাড়।
২০২৪ এ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না। এ বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জে নিয়ে চরকি ২৭টি কনটেন্ট মুক্তি দিয়েছে বলে জানালেন চরকির সিইও রেদওয়ান রনি।
তিনি বলেন, খুব স্বাভাবিকভাবেই দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সব কিছুর ওপরেই প্রভাব ফেলেছে। দর্শকরা নানারকম অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সেই দিক থেকে এটা চ্যালেঞ্জের বছর।
তবে পুরো বিষয়টিতে নির্মাতা হিসেবে নিজের ওপর দায় নিলেন নির্মাতা সৈয়দ আহমেদ শাওকী। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো বানাইনি, তাই সাড়া জাগাতে পারেনি। একই মানুষেরাই তো বানাচ্ছে। এখন কথা হলো, ফিল্মমেকিং বিষয়টাই এমন; সবসময় একই মাপের ভালো হবে না। আশা করি সামনে এ রকম আরেকটা ভালো কাজ আসবে, যেটা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি ফের ঘুরে দাঁড়াবে। এখানে দর্শককে দোষ দিয়ে লাভ নেই। তারা তো টাকা দিয়ে দেখছে, প্রত্যাশা থাকবেই তাদের।’
‘আমাদের কাজ তাদের সে প্রত্যাশা পূরণ করা। তবে কাজ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় প্রভাব রয়েছে মুদ্রাস্ফীতির। সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় কস্ট অব ফিল্মমেকিং বেড়ে গেছে। বাজেট বাড়লেও মুদ্রাস্ফীতির কারণে সেটা অপর্যাপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তবে আমি খুবই আশাবাদী। যদি নতুন ভয়েস, নতুন নির্মাতাদের সুযোগ দেওয়া হয়, দেশীয় মৌলিক গল্প-নির্মাণ খুঁজে বেরা যায়, তাহলে মার্কেট সাস্টেইনেবল হবে।’
তবে আইস্ক্রিনের প্রজেক্ট ডিরেক্টর রাফায়েল মাহবুব ২০২৫ সালকে তাদের জন্য একটি ‘সেরা বছর’ বলে উল্লেখ করলেন। তিনি বলেন, ‘এ বছর আমরা অনেকগুলো অরিজিনাল কনটেন্টের পাশাপাশি সিনেমা হলে মুক্তি পাওয়া সুপারহিট সিনেমা মুক্তি দিয়েছি।
‘এ ছাড়া আমরা অনেকগুলো ইভেন্ট, ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্টের স্টিমিং পার্টনার ছিলাম। সবমিলিয়ে আমরা দারুণ সারা পেয়েছি,’ যোগ করেন তিনি।


