বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রানি মুখার্জি সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যিনি কখনো ট্রেন্ডের পেছনে ছোটেননি; বরং নিজের কাজ দিয়েই ট্রেন্ড তৈরি করেছেন। ১৯৯৬ সালে ক্যারিয়ার শুরু করা এই অভিনেত্রী এ বছর বলিউডে তিন দশক পূর্ণ করছেন। তার এই দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় যাত্রা ঘিরে পুরো ইন্ডাস্ট্রিতেই চলছে উদযাপন।
রানির বড়পর্দায় অভিষেক হয় ১৯৯৬ সালে, কলকাতার বাংলা ছবি বিয়ের ফুল–এর মাধ্যমে। একই বছরের ১৮ অক্টোবর মুক্তি পায় তার প্রথম হিন্দি ছবি রাজা কি আয়েগি বারাত। কাকতালীয়ভাবে, দুটি ছবিই মুক্তি পায় একই দিনে। যদিও হিন্দি ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে সাফল্য পায়নি, তবে রানির অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ে। তার প্রকৃত ব্রেকথ্রু আসে ১৯৯৮ সালে কুছ কুছ হোতা হ্যায় ছবির মাধ্যমে। টিনা মালহোত্রার সংক্ষিপ্ত কিন্তু স্মরণীয় চরিত্র তাকে পৌঁছে দেয় তারকাখ্যাতির প্রথম ধাপে।
২০০০-এর দশকে রানি মুখার্জি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একদিকে মূলধারার সফল নায়িকা হিসেবে, অন্যদিকে শক্তিশালী চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবেও। সাথিয়া, হাম তুম, বীর-জারা, কভি আলবিদা না কেহনা—এই ছবিগুলো বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি তার অভিনয় পরিসরের বিস্তার স্পষ্ট করে। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক আসে ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া ব্ল্যাক ছবির মাধ্যমে। দৃষ্টিহীন ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী মিশেল ম্যাকন্যালি চরিত্রে তার অভিনয় আজও বলিউডের সেরা পারফরম্যান্সগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
স্টিরিওটাইপ ভাঙার ক্ষেত্রে রানি বরাবরই ছিলেন সচেতন ও সাহসী। যখন বলিউডে গ্ল্যামারনির্ভর নায়িকার চাহিদা তুঙ্গে, তখন তিনি বেছে নেন চরিত্রকেন্দ্রিক ও বিষয়নির্ভর গল্প। নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা, তালাশ, মারদানি সিরিজ তার স্পষ্ট উদাহরণ। মারদানিতে শিবানি শিবাজিরাও চরিত্রের মাধ্যমে তিনি বলিউডে নারী পুলিশ চরিত্রের প্রচলিত ধারণাই বদলে দেন। মাতৃত্বের পরও যে একজন অভিনেত্রী অ্যাকশন-নির্ভর ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারেন—রানি মুখার্জি তা কার্যত প্রতিষ্ঠা করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি যশরাজ ফিল্মসের কর্ণধার আদিত্য চোপড়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অনেকেই তখন ভেবেছিলেন, হয়তো এখানেই তার ক্যারিয়ারের গতি কমে যাবে। বাস্তবে হয়েছে ঠিক উল্টো। তিনি কাজের সংখ্যা কমালেও বেছে নিয়েছেন আরও গভীর ও অর্থবহ প্রজেক্ট। হিচকি ও মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে প্রমাণ করে, বয়স বা সময় নয়—গভীর অভিনয়ই তাকে এগিয়ে রাখে।
তিন দশকের ক্যারিয়ারে রানি মুখার্জি অর্জন করেছেন অসংখ্য পুরস্কার। তবে তার সবচেয়ে বড় অর্জন দর্শকের আস্থা ও বিশ্বাস। তিনি কখনোই নিজেকে “কমব্যাক কুইন” হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করেননি, কারণ তিনি কোথাও হারিয়েই যাননি। ধারাবাহিকভাবে, নিজের শর্তে কাজ করে তিনি দেখিয়েছেন—নায়িকা মানে শুধু সৌন্দর্য নয়; নায়িকা মানে শক্তি, গভীরতা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব।


