রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি শনিবার থেকে কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে উভয় দেশ এক হাজার জন করে মোট দুই হাজার জন যুদ্ধবন্দী বিনিময়েও সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আলজাজিরার বরাতে জানা যায়, শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের মধ্যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি থাকবে। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।’
‘যুদ্ধবিরতির সময় সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ থাকবে এবং উভয় দেশ এক হাজার করে বন্দী বিনিময় করবে’, যোগ করেন তিনি।
এর কিছুক্ষণ পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সহকারী ইউরি উশাকভ বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের টেলিফোন যোগাযোগের সময় এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিরা কিয়েভের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছিলেন।’
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে হওয়া ফোনালাপ এই যুদ্ধবিরতির পথ সুগম করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওই আলাপে দুই নেতা জানান- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া মিত্র ছিল। সে সময় বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়েও তারা আলোচনা করেন।’
এর আগে ৯ মে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় দিবস উপলক্ষে দুই দিনের একতরফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল রাশিয়া। ইউক্রেন দাবি করে, তারাও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু মস্কো সেটিকে উপেক্ষা করেছে।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ‘এই অনুরোধটি সরাসরি আমি করেছি। তারা উভয়ই মেনে নিয়েছেন।’
রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘রাশিয়ায় বিজয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। একইভাবে ইউক্রেনের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তারাও বড় অংশীদার ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।’
যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা এখনো চলছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই সমাধানের আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছি। আশা করছি, এটি দীর্ঘ, রক্তক্ষয়ী ও কঠিন এক যুদ্ধের সমাপ্তির সূচনা হবে।’


