বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির তথ্য অনুযায়ী চলতি মাসে মাত্র একটি ছবি মুক্তির জন্য আবেদন করেছে— ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’। এটি ব্যতীত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত কোনো ছবিই মুক্তির ঘোষণা দেয়নি কিংবা সমিতির খাতায় নাম তালিকাভুক্ত করেনি।
সমিতির কর্মকর্তা সমীন্দ্র টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, ‘বরিশাইল্লা পরী’ নামক একটি ছবি মুক্তির আবেদন করার কথা থাকলে তারা এখন আবেদন করবেন না বলে জানিয়েছেন আমাদের। সাধারণ আগের বছরগুলোতে দেখা যেত মুক্তির ৩-৪ আগে থেকেই অনেক ছবি তারিখ নিয়ে রাখতো। এবার কেউই আসছে না তারিখ নিতে।
কেন এমন হচ্ছে? কী বলছেন ইন্ডাস্ট্রির কর্তাব্যক্তিরা? এর পিছনে কি নির্বাচনী প্রচারণার ব্যস্ততা নাকি অন্য কোনো কারণ কাজ করছে?
বর্ষীয়ান নির্মাতা কাজী হায়াতের মতে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সিনেমা বেশি চলে। তিনি বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা বলে নির্বাচনের সময় সিনেমা হলে বেশি যায়। কিন্তু এ বছর একটু ভিন্ন কারণ কাজ করছে। আগের বছরগুলোর তুলনায় এ বছর অনেক বেশি শীত পড়েছে এবং মুক্তি দেওয়ার মত ছবিই নেই।’
তার শেষ কথাটির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু। তিনি বলেন, ‘সাধারণত শীতে আমাদের দেশে সিনেমা হলে দর্শক কম হয়। কিন্তু এবার একটু বেশিই কম হচ্ছে। এর পিছনে রয়েছে সার্বিক বিপর্যয়।’
‘আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে একটি পরিবর্তন এসেছে। অন্তর্বতী সরকারের এ সময়ে অর্থনীতির চাকা তো স্থিতিশীল হয়নি। অনেক শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। তাদের একটা বড় অংশ তো সিনেমা হলে যেতো। তাদের হাতে তো টাকা নেই চাকরি না থাকায়।’
খসরুর মতে এ অচলাবস্থা কাটতে আরও ২-৩ মাস লাগবে। কারণ এরপরই ঈদুল ফিতর। ওই সময়ে মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে ৭-৮টি ছবি। তবে এভাবে ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসার কারণে সিনেমা হলগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে জানালেন হল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল।
তিনি বলেন, ‘ছবি যে নাই, তা না। কিন্তু সবাই এখন শুধু দুই ঈদে ছবি মুক্তি দিতে চায়। তাহলে আমরা বছরের বাকি সময় কীভাবে সিনেমা হল চালু রাখবো। খুব শিগগিরই হয়ত সবগুলো সিনেমা হল এক যোগে বন্ধের ঘোষণা দিতে হবে আমাদের।’


