ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী থেকে জুয়েল রানা (২২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিজিবির সহযোগিতায় উপজেলার খোশালপুর সীমান্তের শূন্যলাইন থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নদীর কচুরিপানার ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত জুয়েল রানা মহেশপুর উপজেলার খোশালপুর গ্রামের আনারুল হকের ছেলে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
মহেশপুর বিজিবি-৫৮ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল রফিকুল আলম জানান, বুধবার বেলা ১১টার দিকে জুয়েল রানা একটি বাইসাইকেল নিয়ে সীমান্তের শূন্যলাইন সংলগ্ন নিজেদের জমিতে ঘাস কাটতে যান। পরে দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে নদীর পাড়ে তার ব্যবহৃত বাইসাইকেল, ঘাস কাটার কাস্তে ও জামা-কাপড় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি জানানো হলে বিজিবি এলাকায় তল্লাশি শুরু করে এবং পরে নদীতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকালে মরদেহটি বিবস্ত্র অবস্থায় ছিল উল্লেখ করে কর্নেল রফিকুল আলম জানান, বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় কোনো গোলাগুলি বা অপরাধমূলক ঘটনার তথ্য তাদের কাছে নেই।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিহত জুয়েল রানা মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং মাঝে মাঝে মানসিক ভারসাম্যহীন আচরণ করতেন। বিষয়টি নিহতের চাচা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য বিজিবিকে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে বিজিবির উপস্থিতিতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। মরদেহে হালকা আঁচড়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।


