মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকে আবেদন

মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকে আবেদন
মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি
Advertisement
Advertisement

হাম ও অন্যান্য রোগের শিশুদের টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তপূর্বক সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ দুদক চেয়ারম্যানের কাছে এ আবেদন করেন। আবদনে হাম ও অন্যান্য রোগের শিশুদের টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করা হয়।

সেখানে বলা হয়, সম্প্রতি সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ব্যাপারটি একজন রাষ্ট্রের সচেতন নাগরিক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে আমাকে মারাত্মক ব্যথিত, উদ্বিগ্ন এবং চিন্তিত করেছে।

সরকারিভাবে শিশুদের হামসহ অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রোগের টিকার সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট হাম রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়া এবং শিশুর মৃত্যুর সংবাদ বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, যা সত্যিই উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার।

আরও পড়ুন

হামে আক্তান্ত হয়ে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায়, মুহাম্মদ ইউনূস এবং নুরজাহান বেগমের দায় রয়েছে বলে রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিক এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে মতামত ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়াও বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে হামের টিকা এবং সিরিঞ্জের অভাবকে পূর্ববর্তী সরকারের সৃষ্ট সমস্যা বলে মন্তব্য করেন।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়ের পদ্ধতিতে একটা পরিবর্তন আনে পূর্ব কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই এবং স্বাস্থ্য খাতে যথেষ্ট বাজেট থাকা স্বত্বেও সময়মত হামসহ অন্যান্য রোগের টিকা ক্রয় এবং শিশুদের টিকাদানে ব্যর্থ হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। ফলে বর্তমানে হামের প্রকোপ বেড়ে যায়, যা বর্তমানে একটি মহামারি আকার ধারণ করছে।

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং হাজার হাজার শিশু হামে এবং অন্যান্য রোগে অপ্রতুল প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। হাম একটি সংক্রামক ব্যাধি, যা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

আইনজীবী অভিযোগ করেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা ক্রয়ে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ এবং সময়মত প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয় না করার বিষয়টি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ না করা এবং স্বাস্থ্য খাতে যথেষ্ট বাজেট থাকা স্বত্বেও অর্থের সঠিক ব্যবহার না করা দুর্নীতি এবং অনিয়মের ইঙ্গিত প্রদান করে। বিভিন্ন পত্র পত্রিকা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য খাতে টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে সরাসরি অনিয়মের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে সাবেক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মারাত্মক দুর্নীতির এবং অর্থ আত্মসাৎ করার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থ খাত রক্ষায় এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় জনস্বার্থে অত্র জালিয়াতি এবং দুর্নীতির বিষয়টি দুদকের তদন্ত আবশ্যক।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad