বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রুমানা ইসলাম মুক্তি। বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য এই অভিনেত্রী জানান, তার মা আনোয়ারা বেগমের ইচ্ছা এবং শিল্পীদের আগ্রহেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মুক্তি বলেন, তার মা একসময় শিল্পী সমিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং জীবদ্দশায় মেয়েকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চান। সেই স্বপ্ন পূরণ এবং শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে চান। তিনি আরও বলেন, সমিতি থেকে দূরে সরে যাওয়া সদস্যদের আবারও সক্রিয় করতে চান।
বর্তমান কমিটিতে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মুক্তি জানান, গত দেড় বছরে তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন, দুই ঈদে সদস্যদের উপহার প্রদানসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ‘স্মৃতির আয়নায় কিংবদন্তির দৃশ্য’ শীর্ষক স্মরণসভা আয়োজনের কথা, যেখানে প্রয়াত শিল্পীদের পরিবারকে একত্র করা হয়। তার আহ্বানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে অংশ নেন অভিনেতা আহমেদ শরীফ। এছাড়া সোহেল রানাসহ অনেক প্রবীণ-নবীন শিল্পী এতে সাড়া দেন। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গেছে, মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২৪ এপ্রিল শেষ হবে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা, যা জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
মুক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই শিল্পীদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। এফডিসিতে নিয়মিত সময় দেওয়া এবং সদস্যদের পাশে থাকার কারণে নবীন-প্রবীণ অনেকেই তাকে প্রার্থী হতে উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি একটি দক্ষ প্যানেল গঠনের আশাও প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করা মুক্তি ১৯৯২ সালে গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ দিয়ে বড় পর্দায় আসেন। ওমর সানীর সঙ্গে ‘চাঁদের আলো’ তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা দেয়। ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘হাছন রাজা’সহ নানা সিনেমা ও নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও যুক্ত রয়েছেন তিনি।


