রাজধানীর শ্যামলীতে কিডনি চিকিৎসক কামরুল ইসলামের হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় করা গ্রেপ্তার যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনের চার সহযোগীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
সোমবার বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন মো. ফারুক হোসেন সুমন (৪২), মো. লিটন মিয়া (৩৮), মো. ফালান মিয়া (৪২) ও মো. রুবেল (৪২)।
এর আগে, আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানা উপপরিদর্শক মো. ছাব্বির আহমেদ।
রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্য প্রমান এবং তথ্য উপাত্ত পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত চলমান। আসামিরা পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে ঘটনার বিষয়ে তথা মামলার পলাতক অজ্ঞাতনামা আসামিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা প্রকৃত ঘটনার কথা স্বীকার না করে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামি ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় এবং গ্রেপ্তার, পরিকল্পনাকারী, উস্কানিদাতাদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য তাদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে একান্ত প্রয়োজন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী কাজী আক্রামুল হুদা সুমন রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এর বিরোধিতা করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, হাসপাতালটি বিনা পয়সা মানুষের সহযোগিতা করে আসছে। ওই হাসপাতালে ২ হাজার ৫০০-এর ওপরে মানুষ চিকিৎসা নেয়। তাদের অবস্থান দেখে আসামিরা চাঁদা দাবি করে আসছে। সমাজিক প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবির ঘটনায় এটাকে কেউ নিতে পারছেন না। এ ঘটনায় সারা দেশে মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত জিজ্ঞেসাবাদের জন্য সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবী শুনানিতে বলেন, আসামিরা ঘটনায় সঙ্গে জড়িত নয়। আসামিদের মধ্যে কেউ ডিমের ব্যবসা করে, কেউ রিকশা ও গাড়ির ড্রাইভার। মূল আসামিকে আড়াল করে তাদের ফাঁসানো হয়েছে। আসামির রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের প্রার্থনা করছি।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ১১ এপ্রিল রাজধানীর শ্যামলীতে সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে মামলাটি করেন হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শক মো. আবু হানিফ।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ৫ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। দাবি করা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানার শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে আমার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলে। আমার স্ত্রী দরজা খুলে দিলে মঈন আমার স্ত্রীকে বলে, চাঁদাবাবদ এখনই তাদের ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে আমিসহ আমার স্ত্রীর বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেয়। আমার স্ত্রী চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে।
এজাহারে আরও বলা হয়, এ সময় আমি বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করি এবং পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে হাসপাতালে অবস্থানরত আমার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) বাসায় আসতে ফোন করি। পরে আমার ভাই বাসায় পৌঁছালে মঈনসহ অজ্ঞাত সাত-আট জন ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকে।
এক পর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়। এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে হুমকিসূচক স্লোগান দিতে থাকে।
এ ছাড়া তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা মেডিকেলের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টের সামনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। এর ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।


