ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি হেবা ঘোষণাপত্র দলিলে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইউসুফ আলীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
রোববার ফরিদপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন ইউসুফ আলী। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
এর আগে, দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার আবুল বাসার বাদী হয়ে সাবেক সাব-রেজিস্ট্রারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষিত একটি হেবা ঘোষণাপত্র দলিলের (দলিল নম্বর-৪০৬৭, তারিখ ১৫ মে ২০১৭) মূল কপির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফ্লুইড দিয়ে মুছে এবং ঘষামাজা করে পরিবর্তন করেন। অভিযোগে বলা হয়, স্ট্যাম্প নম্বর-০৩১৭১৯৭–এর শেষ লাইনের পর থাকা ‘যাহা দিয়ারা ৩৯১৯ ও ৩৯২০ নং দাগ হইতে দখলভোগ করিবেন’ বাক্যাংশটি মুছে ফেলার পর দলিলটি বালামভুক্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট বালাম বহিতে দাপ্তরিক স্বাক্ষর করা হয়।
দুদকের দাবি, এভাবে দলিলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকৃত গ্রহীতা ও অভিযোগকারী মো. খলিলুর রহমানকে ৯ শতাংশ জমির দখল থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
মামলায় ইউসুফ আলী ছাড়াও ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের তুলনাকারক মো. মেহেদী হাসান, নকলকারক মনোয়ার হোসেন, পাঠক মো. জাহিদ শেখ এবং দলিলের দাতা মো. জিন্নাহ শেখকে আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারায় করা হয়।
দুদক জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর মামলাটি করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


