লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ অন্তত ৭০

লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ অন্তত ৭০
ছবি: জার্মান সমুদ্র পর্যবেক্ষণ সংস্থা সি-ওয়াচ থেকে নেওয়া।
Advertisement
Advertisement

লিবিয়া উপকূলের কাছে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবে বাংলাদেশিসহ অন্তত ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই সমুদ্রে তলিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও মিশরীয় নাগরিকসহ জীবিত উদ্ধার হয়েছেন অন্তত ৩২ জন।

বেঁচে ফেরা অভিবাসীদের বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, শতাধিক যাত্রী নিয়ে ভূমধ্যসাগর পার হওয়ার চেষ্টাকালে শনিবার নৌকা উল্টে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৩০ জনের বেশি অভিবাসীকে বাণিজ্যিক একটি জাহাজ উদ্ধার করে ল্যাম্পেদুসা দ্বীপে আনা হয়েছে।

অভিবাসীরা জানান, তারা লিবিয়ার তাজোরা বন্দর থেকে শুক্রবার রাতে যাত্রা শুরু করেন। লিবিয়ার সমুদ্রসীমা পার হওয়ার আগেই মারাত্মক বৈরী আবহাওয়া এবং তীব্র ঢেউয়ের কবলে নৌকাটিতে পানি উঠতে শুরু করলে এক পর্যায়ে তা উল্টে যায়।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া জার্মান সমুদ্র পর্যবেক্ষণ সংস্থা সি-ওয়াচ জানায়, শনিবার তাদের একটি বিমান কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরে বিপদগ্রস্ত নৌকার খবর পায়। তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকারী বিমান পাঠালে দেখা যায়, প্রায় ১৫ জন একটি উল্টে যাওয়া কাঠের নৌকার ওপরে সমুদ্রে ভাসছিলেন। কয়েকজন পানিতে ভেসে থাকার চেষ্টা করছিলেন এবং কয়েকজনের মরদেহেও সমুদ্রে ভাসছিল।

ইতালির কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র রবার্তো ডি’আরিগো জানিয়েছেন, লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের সঙ্গে ইতালির একটি বাণিজ্যিক জাহাজ যোগ দেয়। বেঁচে ফেরা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইতালীয় জাহাজে স্থানান্তর করা হয় এবং শনিবার তাদের ল্যাম্পেদুসা বন্দরের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

ল্যাম্পেদুসা ইতালির সবচেয়ে দক্ষিণের দ্বীপ এবং এটি হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থীর জন্য ইউরোপে প্রবেশের প্রধান পথ হয়ে উঠেছে।

জীবিত উদ্ধার হওয়া ৩২ জন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিশরের নাগরিক নিশ্চিত করে ইতালির কোস্ট গার্ড জানায়, জাহাজে করে দুটি মরদেহও বন্দরে আনা হয়। তবে তাদের পরিচয় সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ফিলিপ্পো উনগারো বলেছেন, অভিবাসীরা একটি হালকা নৌকা ব্যবহার করে ভূমধ্যসাগর পার করার চেষ্টা করেছিলেন, যা ‘ভূমধ্যসাগর পার করার জন্য সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত’ ছিল। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা ইউএনএইচসিআরের কর্মীদের জানিয়েছেন, এখনও প্রায় ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা আইওএম-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছে, উল্টে যাওয়া নৌকার আকার অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১২০ জন তাতে অবস্থান করতে পারে। এই সংখ্যাটি নিশ্চিত হলে এটাই ভূমধ্যসাগরে সবচেয়ে বড় অভিবাসী দুর্যোগের অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হবে।

কেবল চলতি বছরে কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে অন্তত ৭২৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এদের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে এক জাহাজ দুর্ঘটনায় দুই শিশুসহ অন্তত ৫৩ জন অভিবাসী নিখোঁজ হন। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ইতালির কোস্ট গার্ড সমুদ্র থেকে ১৯টি মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ৫৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে।

মেডিটেরানিয়া সেভিং হিউম্যানস নামের একটি অভিবাসী উদ্ধার সংস্থা সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, ‘এটি কোনো নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি ইউরোপীয় সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতির ফল, যা বৈধ ও নিরাপদ প্রবেশ পথ খুলতে অস্বীকৃতি জানায়।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad