বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পর্কিত অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবকে ঘিরে উদ্বেগ ও প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে নাগরিক সমাজের সংগঠন ‘নাগরিক কোয়ালিশন’।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে শুক্রবার দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার প্রশ্নে যেকোনো সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া উচিত।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট একাধিক অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে তা বাতিলের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কিত অধ্যাদেশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নাগরিক কোয়ালিশন মনে করে, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা এবং ক্ষমতার পৃথকীকরণের নীতি নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের মৌলিক শর্ত। এই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করে অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ জনমনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর ঘোষিত নীতি, বিশেষ করে ‘রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা’ এবং নির্বাচনী ইশতেহারে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকর পৃথকীকরণের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। অন্যথায় এটি জনআস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নাগরিক সমাজের মতে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথকীকরণের দাবি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং আইনজীবী সমাজের একটি সম্মিলিত দাবি। এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্যও গড়ে উঠেছে।
সংগঠনটি সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বিচার বিভাগের কাঠামোগত পরিবর্তন বা অধ্যাদেশ বাতিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত গ্রহণ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। এতে করে বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি আরও সুদৃঢ় হবে এবং জনগণের আস্থা বজায় থাকবে।
বিবৃতির শেষে নাগরিক কোয়ালিশনের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাসরুর সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনকে সমুন্নত রাখতে প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তগুলো পুনর্বিবেচনা করা হোক।


