বাগেরহাটের মোংলা-খুলনা মহাসড়কে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বাস ও যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হলেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ১১ জন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে জেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, মোংলা পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, তার চার ছেলে, তিন পুত্রবধূ (একজন নববধূ), তিনজন নাতি ও নাতনি। বাকি একজন মাইক্রোবাসচালক ও একজন নতুন বৌয়ের আত্মীয়। একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ১০ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।
বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ জানান, মোংলা থেকে ছেড়ে যাওয়া নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে খুলনার কয়রা থেকে মোংলার উদ্দেশ্যে আসা একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে মাইক্রোবাসে থাকা একই পরিবারের দুই শিশুসহ সাতজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে আরও ছয়জন মারা যান।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালে আটজনের মরদেহ আনা হয়। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী আর দুজন পুরুষ। এ ছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
জানা গেছে, আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে সাব্বিরের বৌ আনতে বুধবার পরিবারের সবাই খুলনার কয়রা উপজেলায় যান। সেখানে রাত্রীযাপন করে বৃহস্পতিবার সাব্বিরের নতুন বৌ নিয়ে তারা বাড়ি ফিরছিলেন। মোংলা-খুলনা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় এলে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ও পুলিশ মো. হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা নিহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।


