গণভোটের রায় ঠেকাতে কেউ আদালতের আশ্রয় নিলে জনগণই তার জবাব দেবে বলে জানিয়েছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
রোববার দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’-এর আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, জুলাই বাস্তবায়ন আদেশের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে একই শপথ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা।
‘আইনের এই আদেশের বাস্তবতা, আইনি চরিত্র এবং এর ভাষা যদি সাধারণভাবে মূল্যায়ন করেন তাহলে ফলাফল দাঁড়াবে-বিএনপির এমপিরা শপথ গ্রহণের দিনই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ লঙ্ঘন করেছেন’, যোগ করেন তিনি।
এই এনসিপি নেতা জানান, ঐকমত্য কমিশনে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল জুলাই সনদের পক্ষে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে প্রতিশ্রুতি দিলেও বিএনপি পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসে।
‘জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলগুলো পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রতিজ্ঞা করেছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম গণভোটের সময় বিএনপি “না ভোটের” ক্যাম্পেইন শুরু করল’, বলেন আখতার।
গণভোটে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে অংশ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গ্রামের মানুষ ভোট দিতে গিয়ে এটাকে গণভোটও বলেনি, তারা এটাকে “হ্যাঁ ভোট” বলেছে। জনগণের বড় সমর্থন সেখানে প্রকাশ পেয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণভোটের রায়কে ঠেকানোর জন্য বিএনপি কোর্টে যেতে পারে। সেই বিএনপিকে ঠেকানোর জন্য কোথায় যেতে হবে সেটা জনগণের খুব ভালো করেই জানা আছে।’
জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের প্রকাশের চেয়ে বড় কোনো আইন হতে পারে না হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘একটা রাজনৈতিক প্রশ্নকে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আসা জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রয়ের প্রকাশের বাইরে নিয়ে গিয়ে কোর্টের অধীনস্থ করা যায় না।’
বিএনপির সংসদ সদস্যদের প্রতি অভিযোগ করে তিনি বলেন, তারা এরইমধ্যে জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করেছেন।
তাদের উদ্দেশে আখতার বলেন, ‘আপনারা জনগণের দায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। আপনারা আইন লঙ্ঘন করেছেন। আইন লঙ্ঘন করে কীভাবে আইন সভার সদস্য থাকা যায় সেটা বড় প্রশ্ন।’
তিনি আশা করেন, আগামী ১২ তারিখ সংসদ অধিবেশন শুরুর দিনই বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।
সংসদের ভেতরে এবং বাইরে যেখানে প্রয়োজন সেখানে এনসিপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লড়াই জারি রাখবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আখতার বলেন, ‘বাংলাদেশকে পুরনো রাষ্ট্র কাঠামোয় ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাব।’


